বাঁকুড়ার ইন্দাসে ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির সমীক্ষা করার পরেই বাবা-ছেলেকে বাড়িতে ঢুকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর জখম অবস্থায় বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন আব্দুল হাফিজের বাবা শেখ মহম্মদ মাফিক (৫১)। শনিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইন্দাসের কড়িশুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা শেখ মহম্মদ মাফিক ও তাঁর ছেলে শেখ আব্দুল হাফিজ। CJP-র ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আব্দুল হাফিজ গত ১৩ অগস্ট এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের পরিকাঠামো ও পরিষেবা নিয়ে সমীক্ষা করেছিলেন বলে সংগঠনের দাবি। স্কুলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তিনি সরবও হন।
এর পরেই তাঁদের বাড়িতে হামলা হয় বলে অভিযোগ। CJP-র দাবি, একদল দুষ্কৃতী বাড়িতে ঢুকে আব্দুল হাফিজ ও তাঁর বাবা শেখ মহম্মদ মাফিককে মারধর করে। হামলায় মাফিকের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। প্রথমে স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা করানোর পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এই হামলার পিছনে কারা জড়িত এবং কেন এই হামলা চালানো হলো, তা নিয়ে এখনও রহস্য দানা বেঁধেছে। পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত কোনও সরকারি বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি। ফলে হামলার প্রকৃত কারণ এবং ঠিক কারা এই ঘটনায় জড়িত, তা পুরোপুরি তদন্তসাপেক্ষ।
CJP-র তরফে জানানো হয়েছে, ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গ্রামীণ স্কুলগুলির পরিকাঠামো ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই আব্দুল হাফিজ নিজের এলাকার স্কুলে সমীক্ষা চালিয়েছিলেন। এর আগে শিক্ষা সংক্রান্ত একাধিক দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত একটি কেন্দ্রীয় আন্দোলনেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন বলে সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে।
আব্দুল হাফিজের বাবার মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন CJP-র মূল সমন্বয়ক ও আইনজীবী রত্না সিং। তাঁর অভিযোগ, হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর মাফিকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় থানার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। আব্দুল হাফিজের পাশে দাঁড়াতে আইনজীবীদেরও এগিয়ে আসার আবেদন জানিয়েছেন রত্না সিং।CJP নেতা আশুতোষ রাঙ্কাও ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন।
তাঁর দাবি, ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কাছের একটি স্কুলে যাওয়ার পরেই আব্দুল হাফিজের উপর হামলা চালানো হয় এবং তাঁর বাবাকেও মারধর করা হয়। এই ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে পুলিশের সক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত পুলিশের তরফে ঘটনার বিষয়ে কোনও বিস্তারিত বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

