“চাকরির পেছনে ছুটে সময় নষ্ট না করে যুবকদের ই-রিকশা বা ট্যাক্সি চালানো উচিত।”—উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠকের এই একটি মন্তব্যেই এখন তোলপাড় দেশ। গত ২৩ সেপ্টেম্বর লখনউতে ‘ভারত ট্যাক্সি’ পরিষেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তরুণদের উদ্দেশে তাঁর দেওয়া এই পরামর্শ ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠকের দাবি, চাকরি করার চেয়ে ই-রিকশা বা ট্যাক্সি চালানোর মতো স্ব-কর্মসংস্থানে স্বাধীনতা অনেক বেশি। তিনি বলেন, “চাকরির চক্করে পড়বেন না। দিনে মাত্র চার ঘণ্টা গাড়ি চালান, আর বাকি সময়টা সন্তানদের সঙ্গে, পরিবারের সঙ্গে কাটান।” নিজের বক্তব্যের সপক্ষে একটি হিন্দি প্রবাদ টেনে তিনি বলেন—“পরাধীন সপনেহুঁ সুখ নাহিঁ।” অর্থাৎ, অন্যের অধীনে থেকে বা অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে কখনো প্রকৃত সুখ পাওয়া যায় না। তাঁর যুক্তি, ট্যাক্সি বা ই-রিকশা চালালে নিজের সুবিধামতো কাজের সময় নির্ধারণ করা যায় এবং বাড়ির কাছাকাছি থেকে উপার্জনের পাশাপাশি পরিবারকেও পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব।
ব্রজেশ পাঠকের ভাষ্য, চাকরির ক্ষেত্রে অনেক সময় পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করা যায় না। অন্যদিকে, ট্যাক্সি বা ই-রিকশা চালানোর মতো স্ব-কর্মসংস্থানে কাজের সময় নিজের সুবিধামতো ঠিক করা সম্ভব।
তবে উত্তরপ্রদেশের বেকারত্ব ও কর্মসংস্থান সংকটের মাঝে উপমুখ্যমন্ত্রীর এই স্বনির্ভরতার তত্ত্বকে তীব্র আক্রমণ করেছে বিরোধী শিবির। সমাজবাদী পার্টির (SP) সাংসদ পুষ্পেন্দ্র সরোজ এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেন, যেখানে রাজ্যের শিক্ষিত যুবকেরা সম্মানজনক চাকরির আশায় বছরের পর বছর লড়াই করছেন, সেখানে তাদের রিকশা চালাতে বলা সরকারের ব্যর্থতারই প্রমাণ। তরুণদের ই-রিকশা চালানোর পরামর্শ না দিয়ে তাঁদের দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্রজেশের এই মন্তব্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, চাকরির জন্য চেষ্টা করা তরুণদের ই-রিকশা চালানোর পরামর্শ দেওয়া কতটা ঠিক।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
