মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একাংশ সরানোকে ঘিরে সোমবার নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মসজিদের অংশ সরানোর প্রস্তুতির সময় সেখানে জড়ো হওয়া মানুষের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ। এলাকায় RAF-সহ বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
এই বিরোধের সূত্রপাত ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভ মেলার প্রস্তুতিতে উজ্জয়নের রাস্তা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ঘিরে। ওই প্রকল্পে একটি ১৫ মিটার চওড়া রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ৭৩০ মিটার রাস্তার এই প্রকল্পে ২৭২টি স্থাপনা প্রভাবিত হওয়ার কথা রয়েছে। শাহী মসজিদের একটি অংশও প্রস্তাবিত রাস্তার মধ্যে পড়েছে।
মসজিদ পরিচালনাকারীদের দাবি, শাহী মসজিদটি বহু পুরোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা। ইমাম মহম্মদ ইব্রাহিমের বক্তব্য অনুযায়ী, মসজিদটি ১৩৯০ সালে তৈরি। রাস্তা চওড়া করার জন্য মসজিদের অংশ সরানোর পরিবর্তে বিকল্প ব্যবস্থা করার দাবিও জানানো হয়েছে। অন্য দিকে প্রশাসনের বক্তব্য, সিংহস্থ কুম্ভে বিপুল সংখ্যক তীর্থযাত্রীর সমাগম হবে। যান চলাচল ও জনসুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই রাস্তা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের ৯ সেপ্টেম্বরের রায়ে মসজিদের যে অংশগুলি সরানোর প্রস্তাব রয়েছে, তার উল্লেখ করা হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে নামাজের হল বা জামাতখানার একটি অংশ, প্রায় ১২০ ফুট উচ্চতার একটি মিনার এবং সামনের দিকের দর্গাহ। মসজিদটি ওয়াক্ফ সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে।
এই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে মসজিদ পরিচালনাকারীরা হাই কোর্টে আবেদন করেছিলেন। ৯ সেপ্টেম্বর বিচারপতি সন্দীপ এন ভাটের একক বেঞ্চ দুটি আবেদন খারিজ করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, পুরসভা প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পদক্ষেপ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। রাস্তা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্রে সিংহস্থ কুম্ভ, বিপুল তীর্থযাত্রীর সমাগম এবং যান চলাচলের বিষয়টিও আদালত বিবেচনায় নেয়।
এর পর ওই রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করা হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর, সোমবার সেই আপিলের শুনানি হয়। শুনানিতে মসজিদ কর্তৃপক্ষ ও উজ্জয়ন পুরসভার মধ্যে হওয়া সমঝোতার বিষয়টি আদালতের সামনে আসে। আদালত পুরসভার দেওয়া আশ্বাসগুলি বাধ্যতামূলক বলে নথিভুক্ত করে এবং সেই ভিত্তিতে আপিলটি নিষ্পত্তি করে। অর্থাৎ, ডিভিশন বেঞ্চ সরাসরি আপিল খারিজ করার পরিবর্তে সমঝোতা ও পুরসভার আশ্বাসের ভিত্তিতে মামলাটি নিষ্পত্তি করেছে।
আদালতের শুনানির দিনই মসজিদকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রবিবার রাত থেকেই মসজিদের ভিতরে ও বাইরে বহু মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। সোমবার প্রশাসনের পদক্ষেপের সময় বিক্ষোভকারীদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পাথর ছোড়ার অভিযোগের পর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। প্রশাসন ও স্থানীয় মুসলিম প্রতিনিধিদের বক্তব্য অনুযায়ী, মসজিদের প্রভাবিত অংশ সরানো নিয়ে আগেই সমঝোতা হয়েছিল। উজ্জয়নের শহর কাজিও মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে শান্ত থাকার আবেদন করেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও এসেছে। কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ি মসজিদের অংশ সরানোর উদ্যোগ নিয়ে প্রশাসনের কাছে আরও সংবেদনশীলভাবে বিষয়টি দেখার আবেদন করেছেন। তাঁর বক্তব্য, রাস্তা চওড়া করার প্রয়োজনীয় জমি অন্য দিক থেকে নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত।
শাহী মসজিদ ঘিরে বিতর্ক তাই এক দিনে তৈরি হয়নি। সিংহস্থ কুম্ভের আগে রাস্তা চওড়া করার প্রশাসনিক পরিকল্পনায় মসজিদের একটি অংশ পড়ার পর থেকেই আপত্তি শুরু হয়। প্রথমে সিঙ্গল বেঞ্চে মামলা, পরে সেই রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল—এই আইনি প্রক্রিয়ার পর ২৮ সেপ্টেম্বর আদালত সমঝোতার ভিত্তিতে আপিলটি নিষ্পত্তি করেছে। তবে মসজিদের প্রভাবিত অংশ সরানো নিয়ে স্থানীয় স্তরে যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, তা সোমবারের সংঘর্ষের মধ্যেও স্পষ্ট হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
