পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং একের পর এক অনিয়মের অভিযোগের জেরে অবশেষে বড়সড় কোপ পড়ল জাতীয় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-তে। কাঠামোগত সংস্কারের অংশ হিসেবে সংস্থার ৫০ জনেরও বেশি কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন ও দক্ষ পেশাদারদের নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে NTA-র পরিচালিত বিভিন্ন পরীক্ষা নিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের আবহেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী উচ্চশিক্ষা দফতরের সচিব ও সংস্থার শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত এবং ত্রুটিমুক্ত করার রূপরেখা তৈরি হয়।
শিক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, NTA-র কাজের গতি এবং নিরাপত্তা বাড়াতে প্রশাসনিক স্তরে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সংস্থার তরফে চিফ টেকনোলজি অফিসার (CTO), চিফ ফিনান্স অফিসার (CFO) এবং চিফ ইনফর্মেশন সিকিয়োরিটি অফিসার (CISO)-র মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং সাইকোমেট্রিক্সের মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রে জেনারেল ম্যানেজারসহ মোট ১০টি নতুন পেশাদার পদ তৈরি করা হয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস ও গোপনীয়তাভঙ্গ রোধ করতে এবার কঠোর প্রোটোকল চালুর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। এদিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবার থেকে প্রশ্নপত্র ও অন্যান্য গোপনীয় নথিপত্র রাখার জন্য এখন থেকে একদম আলাদা এবং সুরক্ষিত ঘরের ব্যবস্থা করা হবে, যেখানে সাধারণের প্রবেশাধিকার থাকবে না। এছাড়া হ্যাকিং বা তথ্যফাঁসের ঝুঁকি এড়াতে যে কম্পিউটার সিস্টেমে প্রশ্ন তৈরি বা সংরক্ষণ করা হবে, তা সম্পূর্ণ ইন্টারনেট সংযোগহীন (যাকে ‘এয়ার-গ্যাপড’ ব্যবস্থা বলা হয়) রাখা হবে।
এর ফলে বাইরে থেকে ওই কম্পিউটারে ঢোকা বা তথ্য চুরি করা অসম্ভব হবে না। পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনো ধরনের মোবাইল বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে নিয়ে ঢুকতে না পারে, সে বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর নিয়ম ও নজরদারি রাখা হবে। এবং পরীক্ষার পুরো গোপনীয় পরিচালনা ব্যবস্থা বা ‘CONOPS’-কে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থায় কোথাও কোনো ত্রুটি বা ফাঁকফোকর আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি পূর্ণাঙ্গ অডিট রিপোর্ট বা হিসাবও তলব করেছে কেন্দ্র।
s

