ঝাড়খণ্ডে টানা ২৪ দিনের ছাত্র-যুব আন্দোলনের পর বড় সিদ্ধান্ত নিল হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন সরকার। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের দাবি মেনে ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (JSSC) কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল (CGL) পরীক্ষা বাতিল করার ঘোষণা করলো। একইসঙ্গে টেকনোক্রেটিক ডায়নামোস প্রাইভেট লিমিটেড (TDPL) এর সঙ্গে সম্পর্কিত পরীক্ষা, প্রকাশিত ফলাফল, নির্বাচিত প্রার্থী এবং ওই সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত অন্যান্য কার্যক্রমও বাতিল করার কথা জানিয়েছে ঝাড়খন্ডের সরকার।
সোমবার রাতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন জানান, ২০১৪ সাল থেকে পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ঘটে যাওয়া ছোট-বড় অনিয়মের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখতে ব্যাপক তদন্ত করা হবে। পাশাপাশি পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য প্রবীণ আইএএস আধিকারিক অমিতাভ কৌশলের নেতৃত্বে একটি বিশেষ পরীক্ষা সংস্কার কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।
আন্দোলনরত ছাত্রদের অন্যতম প্রধান অভিযোগ ছিল, অতীতে পরীক্ষা সংক্রান্ত জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগে কালো তালিকাভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও TDPL কে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। JPSC এবং JSSC এর পরীক্ষা ও নিয়োগের ক্ষেত্রেও ওই সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন আন্দোলনকারীরা।
এই দাবিগুলিকে সামনে রেখেই গত ২৪ দিন ধরে ঝাড়খণ্ডে ছাত্র-যুবদের আন্দোলন চলছিল। আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো। তিনি অনশনেও বসেছিলেন। সরকারের সিদ্ধান্তের পর তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা এবং তা পূরণের উদ্যোগ নেওয়ায় তাঁরা কৃতজ্ঞ।
দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোর বক্তব্য, সরকার দুর্নীতির চক্রের মূল পর্যন্ত পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তদন্ত ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপকে ছাত্রসমাজ সমর্থন করবে। তবে পরীক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক সংস্কারের দাবিতে তাঁদের লড়াই চলবে। সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হওয়ার পরই আন্দোলন প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
সরকারের এই ঘোষণার পর আন্দোলনরত ছাত্রদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তাঁদের দাবি, শুধু একটি পরীক্ষা বাতিল করাই নয়, পরীক্ষা ও নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি।
অন্যদিকে, দিল্লির যন্তর মন্তরে CJP-সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিকে ঘিরে যে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছিল, তার পর ঝাড়খণ্ডেও ছাত্র আন্দোলনের সাফল্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, সংগঠিত ছাত্র-যুব আন্দোলনের চাপেই সরকার তাঁদের দাবিগুলি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে বাধ্য হয়েছে।

