মসজিদ থেকে মাইক খোলার অভিযোগ, ‘পুলিশ কোনও নির্দেশ দেয়নি’, হাই কোর্টে রাজ্যের দাবি, পাল্টা সওয়াল কল্যাণের

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
4 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় মঙ্গলবার শুনানি হল।  মামলাকারীদের অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন মসজিদে পুলিশ গিয়ে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে মাইক খুলে নিতে বলেছে। যদিও রাজ্যের দাবি, মাইক খোলার জন্য পুলিশ কোনও নির্দেশ দেয়নি।  এমনকি এ নিয়ে কোনও বৈঠকও হয়নি বলে আদালতে জানান রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

এর আগে এই মামলার শুনানিতে আদালত রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলকে সরকারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানাতে বলেছিল।  এ দিন সেই বিষয়টি আদালতকে জানিয়ে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল বলেন, মাইক খুলে নেওয়ার কোনও নির্দেশ পুলিশ দেয়নি।  মসজিদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে কোনও বৈঠক হয়েছে বলেও তাঁর কাছে কোনও তথ্য নেই।

এর পরেই মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের আইনজীবী।  তাঁর বক্তব্য, মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ করা হলেও তার পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ দেওয়া হচ্ছে না।  কোন পুলিশ আধিকারিক বা কোন সরকারি কর্তৃপক্ষ এমন নির্দেশ দিয়েছিল, মামলায় তাও উল্লেখ নেই।  এমনকি সেই নির্দেশ মেনে কোথাও মাইক খোলা হয়েছে, এমন কোনও কাগজও আদালতে দেখানো হয়নি বলে দাবি রাজ্যের।

রাজ্যের পক্ষে থেকে আরও বলে, মামলায় ইমাম বা মসজিদ কমিটির সদস্যদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।  কিন্তু তাঁদের কেউ এখনও সরাসরি আদালতে এসে অভিযোগ করেননি।  সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের উপর নির্ভর করেই মূল অভিযোগ করা হয়েছে বলেও আদালতে জানান রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল।

অন্যদিকে, মামলাকারীর আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের এই যুক্তির বিরোধিতা করেন।  তিনি বলেন, জনস্বার্থের মামলায় সাধারণ মামলার মতো শুরুতেই প্রতিটি অভিযোগের প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক নয়।  মানুষের কোনও বড় সমস্যা বা অধিকার নিয়ে অভিযোগ উঠলে, সেই অভিযোগ সত্যি কি না তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব আদালতের। শুধু সব তথ্য বা প্রমাণ শুরুতেই দেওয়া হয়নি, এই কারণে মামলাটি খারিজ করা উচিত নয়।

এদিন আদালতে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলেন, এই মামলার মূল অভিযোগ হল—পুলিশ মসজিদ কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে মাইক খুলে নিতে বলেছে।  সেই অভিযোগ সত্যি কি না, আদালত আগে তা খতিয়ে দেখুক। তার আগেই ‘প্রমাণ নেই’ বা ‘মামলা গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়।  তিনি আরও বলেন, যদি কোনও ইমাম বা নির্দিষ্ট ব্যক্তি নিজে আদালতে এসে অভিযোগ করেন, তা হলে বিষয়টি একজনের ব্যক্তিগত অভিযোগ হিসেবে দেখা হবে।  কিন্তু এখানে অভিযোগটি কোনও একজনের নয়, বরং পুলিশের এমন পদক্ষেপ নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাই এটিকে জনস্বার্থের মামলা হিসেবেই দেখা উচিত।

এছাড়াও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আর‌ও বলেন, নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট শব্দসীমার মধ্যে মাইক ব্যবহার করা যায়।  তাই মাইকের শব্দ কতটা ছিল, তা না মেপে এবং কোনও লিখিত নোটিস না দিয়েই পুলিশ কী ভাবে মাইক খুলে নিতে বলতে পারে, সেই প্রশ্ন‌ই আইনজীবী কল্যাণ।  তাঁর অভিযোগ, এখন এমন একটি ব্যবস্থা চালু হয়েছে যেখানে কোনও লিখিত নির্দেশ বা নোটিস দেওয়া হচ্ছে না।  শুধু মুখে মুখে মাইক খুলে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে এবং পরে পুলিশ গিয়ে তা খুলে নিচ্ছে।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট শব্দসীমার মধ্যে মাইক ব্যবহার করা হলে পুলিশ শুধু মুখে মুখে নির্দেশ দিয়ে তা বন্ধ করতে পারে না।

এ দিন শুনানিতে আদালতও জানায়, মামলায় কী কী কাগজপত্র রয়েছে, শুধু তা নিয়েই আলোচনা করলে হবে না।  মাইক খোলার যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি সত্যি কি না, সেটিও দেখা দরকার।  তবে আদালত এ দিন মাইক খোলা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।