কলকাতার সুভাষ উদ্যান (নর্দান পার্ক)-এ অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তা মাতৃমণ্ডলীর সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সরব হলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, স্বাধীনতা দিবস পালন এবং বন্দেমাতরম নিয়ে প্রশ্ন তুলে কড়া বার্তা দেন তিনি।
শুভেন্দুর দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দেমাতরম গাইতে দেওয়া হয় না, ১৫ অগস্টও যথাযথ ভাবে পালন করা হয় না। জাতীয় পতাকা উত্তোলন নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে এবং বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
তিনি বলেন, ‘‘যাঁরা যাদবপুর নিয়ে কাঁদছেন, তাঁদের জেনে রাখা উচিত—এই রাজ্যে, এই দেশে থাকতে হলে বন্দেমাতরম গাইতে হবে।’’ জাতীয়তাবাদ ও রাষ্ট্রবাদের প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দেমাতরমের পাশাপাশি ‘জন গণ মন’ হবে বলেও দাবি করেন শুভেন্দু।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েও এ দিন অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, শিক্ষা দফতরের আধিকারিকদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে দেওয়া হয় না। এমনকি সিসিটিভি লাগানোর ক্ষেত্রেও বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
যাদবপুর ইস্যুতে বামেদের পাশাপাশি তৃণমূলের দুই শিবিরকেও নিশানা করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, যাদবপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা চলছে। ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ করেও কোনও পক্ষের লাভ হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মঞ্চ থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এ দিন একের পর এক মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

