দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারী নিশু আজাদের বাবা সঞ্জয় কুমারকে মারধরের অভিযোগকে ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়ল। অভিযোগের ভিত্তিতে হিন্দুত্ববাদী ইনফ্লুয়েন্সার স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় এবার এসসি/এসটি আইনের ধারা যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫১(৩) ধারায় প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও যুক্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পৃথক একটি অভিযোগের ভিত্তিতে পকসো আইনেও মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ জুনের যন্তর মন্তরের একটি বিক্ষোভকে ঘিরে। অভিযোগ, সেই বিক্ষোভে নিজের নাবালিকা মেয়েকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন সঞ্জয় কুমার। সেখানে তাঁকে মারধর করা হয়। ঘটনায় স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিশু আজাদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের কথিত একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসে। সেখানে তিনি ওই ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে সঞ্জয় কুমারকে মারধরের কথা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ। এমনকি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় গুরুতর জখম হওয়ার কথাও ভিডিয়োয় বলতে শোনা যায়। একইসঙ্গে নিজের রাজনৈতিক প্রভাব এবং কয়েক জন পরিচিত নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথাও তিনি দাবি করেন। যদিও তাঁর এই দাবিগুলির সত্যতা নিয়ে পৃথক ভাবে প্রশ্ন উঠেছে।
এই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পরেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হয়। শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP), ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেস এবং লোকসভার সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদ-সহ কয়েক জন পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান এবং স্বতন্ত্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন। এর পরেই তাঁকে উত্তরপ্রদেশ থেকে আটক করা হয়েছে বলে জানা যায়। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য রয়েছে।
অন্যদিকে, স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ানের নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর দাবি করার অভিযোগও উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে চিরাগ পাসওয়ানের নেতৃত্বাধীন লোক জনশক্তি পার্টি (রাম বিলাস)-এর পক্ষ থেকেও পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দলের অভিযোগ, রাজনৈতিক সুরক্ষা পাওয়ার দাবি করতে ভরদ্বাজ মিথ্যাভাবে চিরাগ পাসওয়ানের নাম ব্যবহার করেছেন।
আইনি লড়াইয়েও পিছিয়ে আসছে না নিশু আজাদের পরিবার। তাঁদের আইনজীবীরা থানায় গিয়ে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে আরও কঠোর ধারা যুক্ত করার দাবিও জানানো হয়েছে। বিশেষ করে গুরুতর জখমের ধারা যুক্ত করার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে খবর।

