রাজ্যের কৃষক, পশুপালক ও পশু ব্যবসায়ীদের জন্য বড় খবর। রাজ্যের সমস্ত পশু হাট ফের চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন রাজ্য সরকারের আদিবাসী ও সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের ক্যাবিনেট মন্ত্রী তথা রানিবাঁধের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ক্যাবিনেট বৈঠকে নির্দিষ্ট নিয়ম ও বিধি মেনে পশু হাটগুলি পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কাজ করেছে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর, মে মাসে ঈদুল আজহার ঠিক আগে গবাদিপশু বলি ও কেনাবেচার ওপর নতুন করে কড়া সরকারি বিধিনিষেধ আরোপ করা নিয়ে। সেসময় মূলত ১৯৫০ সালের ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যানিম্যাল স্লটার কন্ট্রোল অ্যাক্ট’ এবং কলকাতা হাইকোর্টের ২০১৮ সালের রায়কে ঢাল করে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। সরকারের সেই কড়া নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে, যেকোনো নির্দিষ্ট গবাদিপশু জবাই করার আগে তার শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা করিয়ে আইনি ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে হবে যা বাধ্যতামূলক।
কি ছিল সেই আইনের নিয়ম:
১. আইনটিতে পশু অর্থে ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর ও মোষকে বোঝানো হয়েছিল। বলা হয়েছে, পৌরসভার চেয়ারম্যান ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রথমে প্রাণীটিকে দেখে ঠিক করবেন যে পশুটির বয়স ১৪ বছরের বেশি কিনা।
২. যদি তা না হয়, পশুটি যদি বিকলাঙ্গ হয় বা সন্তান প্রজননে অক্ষম হয়, সেক্ষেত্রেও কর্মকর্তা বলি দেওয়ার সার্টিফিকেট ইস্যু করতে পারেন।
৩. নির্দিষ্ট কারণ না দেখিয়ে যদি আধিকারিক সার্টিফিকেট না দেয়, তবে রাজ্য সরকারের কাছে নালিশও জানাতে পারেন ওই গবাদি পশুর মালিক।
৪. এর পাশাপাশি খোলা জায়গায় পশু বলি নিষিদ্ধ করা হয় এবং সার্টিফিকেট পাওয়া পশুও নির্দিষ্ট পুরসভা বা প্রশাসনের চিহ্নিত কসাইখানাতেই বলি করার কথা বলা হয়। নিয়ম ভাঙলে জেল ও জরিমানার বিধানও রয়েছে।
এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার পরই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পশু কেনাবেচা নিয়ে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে সার্টিফিকেট, পশুর বয়স এবং জবাইয়ের নিয়ম নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় হাটে স্বাভাবিক কেনাবেচা অনেকটাই কমে যায় বলতে গেলে একেবারেই শূন্য প্রায়। বিজেপি ক্ষমতায় আসার ওই মে মাসেই সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে রাজ্যের বিভিন্ন গবাদি পশুর বাজারে ব্যবসা কমে যাওয়ার কথা উঠে এসেছিল।
এর প্রভাব শুধু উৎসবের মরশুমের ব্যবসায় সীমাবদ্ধ ছিল না। পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত গ্রামীণ মানুষের দৈনন্দিন অর্থনীতিতেও এটি বড় ধাক্কা দেয় । বিশেষ করে গ্রামীণ বাংলায় পুরনো বা অপ্রয়োজনীয় পশু বিক্রি করে নতুন পশু কেনার যে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক চক্র রয়েছে, তা পুরোপুরি বাধার মুখে পড়ে । এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের হাজার হাজার খামারি ও ব্যবসায়ী।
এবার সেই পরিস্থিতির মধ্যেই পশু হাট ফের চালুর সিদ্ধান্তের কথা সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে,
গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল করতে এবং কৃষক ও পশুপালকদের এই তীব্র দুর্দশা থেকে মুক্তি দিতেই অবশেষে রাজ্য ক্যাবিনেট পশু হাটগুলি পুনরায় খোলার সবুজ সংকেত দিয়েছে। মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর জানান, কৃষক ও পশুপালকদের সুবিধা এবং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে পশু কেনাবেচার পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।
তবে হাটগুলি আবার চালু হলেও নির্ধারিত আইন ও নিয়ম মেনেই পশু কেনাবেচা করতে হবে বলে জানায়। আগের মতো নিয়মের বাইরে গিয়ে কেনাবেচা করার সুযোগ আর থাকবে না। তবে কোন কোন জেলায় কবে থেকে হাট পুরোদমে চালু হবে এবং কেনাবেচার ক্ষেত্রে ঠিক কি কি নিয়ম মেনে চলতে হবে, তা রাজ্য সরকার ঠিক করে দেবে নির্দেশিকা জারি করে।

প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
