বিধানসভায় পাশ হয়েছিল, রাজ্যপালের অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছিল রাজ্যের ‘গুন্ডা দমন বিল’। কিন্তু রাষ্ট্রপতির অনুমোদন মিলল না। বরং কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সংঘাতের প্রশ্ন তুলে বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
বিলটির একটি ধারা নিয়েই মূল আপত্তি জানিয়েছে কেন্দ্র। ওই ধারায় মাদক সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদেরও ‘গুন্ডা’ হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়েছিল। কেন্দ্রের বক্তব্য, এই ব্যবস্থা মাদক পাচার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আটক করার জন্য আগে থেকেই থাকা কেন্দ্রীয় পিআইটি-এনডিপিএস আইন, ১৯৮৮-এর সঙ্গে সংঘাত তৈরি করতে পারে।
এই কারণেই বিলের ওই ধারা থেকে এনডিপিএস আইন, ১৯৮৫-এর উল্লেখ বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করে বিলটি আবার বিধানসভায় আনতে পারে। সেখানে সংশোধন পাশ হলে ফের রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
তবে এই বিল নিয়ে আগেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছিল। বিলের বিরুদ্ধে তিনটি জনস্বার্থ মামলা করা হয়। গত ৬ অগস্ট সেই মামলাগুলি খারিজ করে আদালত জানায়, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত বিলটি আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি। তাই আইনটি কার্যকর হওয়ার আগেই তার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আদালত কোনও সিদ্ধান্ত দেয়নি।
এই বিলে অন্যতম বিতর্কিত দিক হল প্রতিরোধমূলক আটকের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনও ব্যক্তিকে জননিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক বলে মনে হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আদালতে বিচার শুরু হওয়ার আগেই তাঁকে আটক করার ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি, কোনও ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট জেলা বা এলাকা থেকে সর্বোচ্চ এক বছর দূরে রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে।
এছাড়া অপরাধমূলক কার্যকলাপের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতির ঘটনায় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বা ক্ষতিপূরণের মতো ব্যবস্থার কথাও বিলে রাখা হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত এই বিধানগুলি কার্যকর আইন হিসেবে চালু হয়নি।
এখন রাষ্ট্রপতির কাছে ফেরত যাওয়া বিলটি নিয়ে রাজ্য সরকার কী পরিবর্তন করে, সেটাই দেখার।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
