নয়ডার জেলাশাসক মেধা রূপমের মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে চিঠি দিল Lawyers Association for Constitution (LAFC)। মামলাটি কেন একটি নির্দিষ্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানো হল এবং শুনানির সময় লাইভে ভয়েস অফ এবং কেন বন্ধ রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আইনজীবীদের এই সংগঠন।
মেধা রূপম দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মেয়ে। তিনি উত্তরপ্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগর জেলার জেলাশাসক। নয়ডায় শ্রমিকদের বিক্ষোভের সময় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আকৃতি চৌধুরীকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (NSA) আটক করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় জেলাশাসক মেধা রূপমের ভূমিকা নিয়ে পরে আদালতে প্রশ্ন ওঠে।
আকৃতি প্রায় পাঁচ মাস জেলে ছিলেন। পরে এলাহাবাদ হাই কোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে NSA-র ধারায় আটক রাখার সিদ্ধান্ত বাতিল করে। একই সঙ্গে মেধা রূপমের ভূমিকা নিয়েও কড়া মন্তব্য করে আদালত। আকৃতিকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। সেই টাকা মেধা রূপম-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বেতন থেকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
এলাহাবাদ হাই কোর্টের সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যান মেধা রূপম। উত্তরপ্রদেশ সরকারও আলাদা ভাবে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।
২৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে ওঠে। শুনানি হয় বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মা এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংহের বেঞ্চে। শুনানির পর হাই কোর্টের কিছু মন্তব্য এবং ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশের উপর আপাতত স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে জানায়, হাই কোর্টের পুরো রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি।
এর মধ্যেই মেধা রূপমের মামলা সুপ্রিম কোর্টে কী ভাবে উঠল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে LAFC। সংগঠনের দাবি, আদালতের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মামলাটি যে বেঞ্চে ওঠার কথা, সেখানে না গিয়ে নির্দিষ্ট একটি বেঞ্চে মামলাটি পাঠানো হয়েছিল।
আইনজীবী সংগঠনটি চিঠিতে আরও বলেছে, মেধা রূপম একজন সরকারি আধিকারিক এবং তিনি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের মেয়ে। তাই তাঁর মামলাটি অন্য মামলার মতো স্বাভাবিক নিয়মে তালিকাভুক্ত হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
চিঠিতে আরও একটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। মামলার শুনানির সময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চলা লাইভ কার্যক্রমের শব্দ বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে LAFC। সংগঠনের বক্তব্য, আদালতের গুরুত্বপূর্ণ শুনানি সাংবাদিক, আইনজীবী এবং সাধারণ মানুষও অনুসরণ করেন। তাই এই মামলার শুনানির সময় অডিয়ো বন্ধ রাখার কারণও পরিষ্কার হওয়া দরকার।
LAFC-র বক্তব্য, মামলাটি কেন একটি নির্দিষ্ট বেঞ্চে পাঠানো হল এবং শুনানির সময় সরাসরি শুনানির অডিয়ো কেন বন্ধ রাখা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চেয়েছে সংগঠনটি।
তবে এগুলি LAFC-র অভিযোগ ও প্রশ্ন। সুপ্রিম কোর্ট এখনও এ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি। আগামী ৭ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।

প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
