বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের নির্বাচনী হলফনামা ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা এবার কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়াল। জন্মসাল এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে কংগ্রেসের দায়ের করা মামলায় শুক্রবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে শুনানি শেষ হয়েছে। তবে এদিনই কোনও রায় দেয়নি আদালত। শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রাখা হয়েছে।
হাসিরানি রথের হলফনামায় বয়স ও মাধ্যমিকের তথ্য নিয়ে প্রথম থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল। মামলাকারী কংগ্রেসের অভিযোগ, নথিতে ১৯৬৫ সালে চৌখালী গঙ্গা পদ্মা মিলন কন্যা বিদ্যাপীঠে দশম শ্রেণিতে পড়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে তাঁর বয়সের ঘরে ৬০ বছরের বেশি বয়সের কথা উল্লেখ রয়েছে। এই দুই তথ্য পাশাপাশি রাখলেই বয়স এবং পড়াশোনার বছরের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে বলে দাবি মামলাকারীর।
শুধু বয়সের হিসাব নয়, স্কুলের তথ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, হলফনামায় যে স্কুলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠান ১৯৬৩ সালে পথ চলা শুরু করলেও তখন সেটি জুনিয়র স্কুল ছিল। পরে ১৯৭৩ সালে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানোর অনুমোদন আসে বলে মামলাকারী পক্ষের বক্তব্য। ফলে ১৯৬৫ সালে ওই স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ার তথ্য কীভাবে এল, তা নিয়েই মূল প্রশ্ন উঠেছে।
শুক্রবারের শুনানিতে কংগ্রেসের আইনজীবী ঋজু ঘোষাল আদালতে দাবি করেন, এই তথ্যের মধ্যে অন্তত একটি ভুল। তাঁর বক্তব্য ছিল, হয় বয়স সংক্রান্ত তথ্য ঠিক নয়, অথবা শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেই কারণে হাসিরানি রথের মনোনয়ন বাতিল করার আবেদন জানানো হয়।
পাল্টা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, মনোনয়নপত্রের স্ক্রুটিনির সময় কোনও আপত্তি তোলা হয়নি। কমিশনের বক্তব্য, সেই পর্যায়ে আপত্তি জানানো হলে বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ ছিল। পরে এইভাবে প্রশ্ন তোলার অধিকার নিয়েও কমিশন আপত্তি জানায়। মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট জাল—এমন অভিযোগও মনোনয়ন বাতিলের জন্য যথেষ্ট কারণ নয় বলে কমিশনের আইনজীবী আদালতে জানান।
হাসিরানি রথের আইনজীবী জয়দীপ করও আদালতে বলেন, যে সময়ে আপত্তি জানানোর কথা ছিল, সেই সময়ে কোনও আপত্তি তোলা হয়নি। ফলে পরে আদালতের মাধ্যমে এই বিষয়ে পদক্ষেপ করার সুযোগ নেই বলে তাঁর যুক্তি। তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি ইচ্ছাকৃত ভুল নয় এবং প্রার্থীকে সুযোগ দেওয়া উচিত।
শুনানির সময় বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বলেন, অভিযোগের যুক্তি এবং আইনের প্রয়োগ দুই বিষয়ে আলাদা। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসার মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করবেন। তবে কমিশনের তরফে প্রার্থীর অযোগ্যতার কথা বলা হয়নি বলেও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে। শেষ পর্যন্ত সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর রায়দান স্থগিত রাখে আদালত।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
