২০২৯ সালে মুড়িগঙ্গা সেতুর উদ্বোধন করা হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে ১ লক্ষ চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। বাল্যবিবাহ রুখতে ছাত্রীদের ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। শনিবার কাকদ্বীপে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে গিয়ে একগুচ্ছ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে কাকদ্বীপকে পৃথক জেলা হিসেবে গড়ে তোলা, সুন্দরবনের উন্নয়ন এবং নতুন করে বাড়ি তৈরির আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
গঙ্গাসাগরের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের অন্যতম ভরসা মুড়িগঙ্গা নদীর ভেসেল পরিষেবা। ভাটার সময় জলস্তর কমে গেলে পরিষেবা ব্যাহত হয়। ফলে সমস্যায় পড়েন সাগরদ্বীপের বাসিন্দা থেকে শুরু করে পুণ্যার্থী ও পর্যটকেরা। দীর্ঘদিন ধরেই মুড়িগঙ্গার উপর সেতু নির্মাণের দাবি উঠেছে। এ দিন সেই প্রকল্পের সময়সীমা ঘোষণা করে শুভেন্দু বলেন, ২০২৯ সালে সেতুর উদ্বোধন করবেন তিনি। আগের সরকার সেতু নির্মাণ নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও জমি অধিগ্রহণ এবং ডিপিআরের কাজ করেনি বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রস্তাবিত সেতুটি কাকদ্বীপের সঙ্গে সাগরদ্বীপের কচুবেড়িয়াকে যুক্ত করবে। সেতু তৈরি হলে গঙ্গাসাগরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কর্মসংস্থান নিয়েও এ দিন বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগামী এক বছরের মধ্যে এক লক্ষ চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। ইতিমধ্যেই ১১ হাজার পুলিশকর্মীকে চাকরি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। শুভেন্দুর কথায়, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ হবে। তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতিভুক্ত প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা যাতে তাঁদের অধিকার ও মর্যাদা পান, সে বিষয়েও জোর দেন তিনি।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ১৮ বছরের কম বয়সি মেয়েদের বিয়ে না দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের কাছে আবেদন জানান তিনি। মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং তাঁদের স্বনির্ভর করে তোলার উপরেও জোর দেন। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ছাত্রীদের মোট ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। প্রথম দুই বছরে ১৭ হাজার টাকা করে এবং তৃতীয় বছরে ১৬ হাজার টাকা দেওয়ার কথা জানান তিনি।
কাকদ্বীপকে পৃথক জেলা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, প্রয়োজনে দুই বছর সময় লাগলেও কাকদ্বীপকে আলাদা জেলা করা হবে। একই সঙ্গে সুন্দরবনকে একটি মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। সুন্দরবনের পরিকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটনের প্রসার এবং দ্বীপগুলির মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করার উপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়নি। আগামী কয়েক মাসে এলাকায় উন্নয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
আবাসন প্রকল্প নিয়েও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় নতুন করে ৪ লক্ষ ৮১ হাজার ২৪২টি বাড়ি তৈরি করা হবে। কোনও কাঁচা বাড়ি যাতে না থাকে, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার কথা জানান তিনি। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বাড়ি তৈরির প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগও তোলেন শুভেন্দু অধিকারী।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-র অধীনে শংসাপত্র প্রদান নিয়েও প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলার জেলাশাসক ও মহকুমাশাসককে এই প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি। আগামী ডিসেম্বর মাসে ফের এলাকায় এসে কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখবেন বলেও জানান। এদিনের বক্তব্যে মাওবাদী, জঙ্গি ও অন্যান্য দেশবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি নেশামুক্ত সমাজ গড়ে তোলা এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়ানোর উপরেও জোর দেন তিনি।
আগামী গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে কাকদ্বীপে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। মেলাকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের যাতায়াত, নিরাপত্তা এবং সুন্দরবন এলাকার পরিকাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ১০ জানুয়ারি গঙ্গাসাগর মেলার উদ্বোধন উপলক্ষে তিনি ফের এলাকায় আসবেন। প্রশাসনের তরফে এদিন এলাকার ১ লক্ষ ২৪ হাজার নাগরিকের হাতে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
