জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ভাষণ শুরু করতেই অধিবেশনকক্ষে দেখা গেল একের পর এক ওয়াকআউট। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও কূটনীতিকদের একটি অংশ কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান। বাইরে তখন নেতানিয়াহুর সফর এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে চলছিল বিক্ষোভ।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নেতানিয়াহু বক্তৃতা দেওয়ার জন্য মঞ্চের দিকে এগিয়ে যেতেই অধিবেশনকক্ষের একাংশ থেকে দুয়ো শোনা যায়। ইসরায়েলি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা অবশ্য দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। পরিস্থিতি সামলাতে অধিবেশনের সভাপতি বারবার প্রতিনিধিদের শান্ত থাকতে বলেন।
এরপর নেতানিয়াহু তাঁর বক্তব্যে ওয়াকআউট করা প্রতিনিধিদের প্রসঙ্গও তোলেন। যারা এখনও কক্ষে রয়েছেন, তাঁদের মধ্যেও কেউ কেউ বেরিয়ে যেতে পারেন এমন মন্তব্য করেন তিনি।
নেতানিয়াহুর ভাষণ ঘিরে আগেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে ওয়াকআউটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এএফপির পাওয়া একটি নথিতে দেখা গেছে, ফিলিস্তিন বিভিন্ন দেশকে একসঙ্গে নেতানিয়াহুর বক্তব্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছিল।
শুধু জাতিসংঘের ভেতরেই নয়, বাইরে নিউইয়র্কের রাস্তাতেও ছিল প্রতিবাদের ছবি। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কাছে কয়েক শ মানুষ জড়ো হন। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ রাস্তায় বসে পড়ায় যান চলাচলও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। গাজায় ইসরায়েলের অভিযান বন্ধ এবং ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের দাবিতে স্লোগান দেন তাঁরা। পরে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে।
জাতিসংঘের ভাষণে নেতানিয়াহু অবশ্য ইসরায়েলের সামরিক অবস্থানের পক্ষেই কথা বলেন। তিনি জানান, ইসরায়েল নিজেদের রক্ষার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করে তাঁর নেতৃত্ব ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
এবারের নিউইয়র্ক সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর কোনো নির্ধারিত বৈঠক ছিল না। তবে জাতিসংঘে নিজের বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে মেয়র জোহরান মামদানির আগের মন্তব্যও নতুন করে আলোচনায় আসে। মামদানি এর আগে বলেছিলেন, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে এবং সেটিকে সম্মান করা উচিত। তবে নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে তাঁর নিজের হাতে নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করার ক্ষমতা নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন।
এই সফরের সময় নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে একাধিক বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীরা গাজায় ইসরায়েলের অভিযান এবং ইসরায়েলকে মার্কিন সমর্থনের প্রতিবাদ জানান। এসব কর্মসূচি থেকে শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
জাতিসংঘে ভাষণ শেষ করেই নিউইয়র্ক ছাড়েন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ এর তথ্য অনুযায়ী, তিনি সরাসরি ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা হন। এর আগে প্যারাগুয়ে, পানামা ও বলিভিয়ার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
