রাজ্যে থাকা অবৈধ বিদেশি ও অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য এবার বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই ঘোষণা করেছিলেন, বেআইনিভাবে থাকা কোনো বিদেশিকেই রাজ্যে ছাড় দেওয়া হবে না। এবার সেই কথাকেই বাস্তবে রূপ দিতে বড় নির্দেশ এলো দিল্লি থেকে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ মেনে নবান্ন থেকে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক কেন্দ্র তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত এটি এক ধরনের বন্দিশালা বা ডিটেনশন সেন্টার এর অনুরূপ হোল্ডিং সেন্টার।
সরকারি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, বেআইনিভাবে রাজ্যে ঢুকে পড়া বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে এই সেন্টারগুলোতে রাখা হবে।
জানা গেছে, অসম রাজ্যে যেভাবে অনুপ্রবেশকারীদের আটকে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, বাংলাতেও এবার সেই একই নিয়ম চালু হতে যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী আগেই পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, এলাকায় এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজনদের নাগরিকত্ব যাচাই করতে হবে। কেউ যদি অবৈধ নাগরিক হিসেবে প্রমাণিত হন, তবে তাকে সরাসরি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে। এরপর বিএসএফ বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাথে কথা বলে তাদের ওপাড়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। তবে দিল্লি থেকে আসা নতুন নির্দেশিকায় এই নিয়মে কিছুটা বদল আনা হয়েছে। এখন থেকে অবৈধভাবে ধরা পড়া এই সমস্ত বিদেশিদের সরাসরি পুশব্যাক না করে, প্রথমে জেলাগুলোর এই হোল্ডিং সেন্টারে এনে রাখা হবে।
এই সেন্টারগুলো কীভাবে তৈরি হবে এবং কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে জেলাশাসকদের কাছে নিয়মাবলী পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তিকে এই সেন্টারে সর্বোচ্চ ৩০ দিন বা এক মাস পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে। এই ৩০ দিনের মধ্যে ওই ব্যক্তির পরিচয় ও সব কাগজপত্র খতিয়ে দেখে জেলাশাসক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন যে তিনি ভারতের নাগরিক নাকি বিদেশি। শুধু নতুন করে ধরা পড়া ব্যক্তিরাই নন, যারা আগে গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং যাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ চলছে, তাদেরও এই সেন্টারে রাখা হতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে জানিয়েছেন, আগের সরকার কেন্দ্রের এই সমস্ত নিয়মকানুন রাজ্যে ঠিকঠাক মেনে চলেনি। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। যারা ভারতের নতুন নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ (CAA)-এর নিয়মের মধ্যে পড়বেন না এবং অবৈধভাবে এদেশে থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য যে, এই হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে মূলত যারা থাকবেন তারা হলেন বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে এসে রাজ্যে বসবাস করা লোকজন এবং মায়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীরা। এছাড়া যাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ রয়েছে, তাদের পরিচয় ও কাগজপত্র যাচাই করার জন্যও এখানে রাখা হবে। যাদের আগে ধরা হয়েছে এবং যাদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই চলছে, তাদেরও এই সেন্টারে রাখা হবে।

