একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মুর্শিদাবাদের দাপুটে নেতা হুমায়ুন কবির শেষ পর্যন্ত অসাধ্য সাধন করলেন। গণনার শুরুর দিকে যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তা বিশাল ব্যবধানে জয়ে রূপান্তরিত হয়েছে। নিজের নবগঠিত দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র (AJUP) প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি রেজিনগর ও নওদা দুটি কেন্দ্র থেকেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করে ইতিহাস গড়েছেন।
তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর বাবরি মসজিদের শিলান্যাস নিয়ে তাঁর মন্তব্য ও কার্যকলাপ রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল। সেই বিতর্কের আবহেই তিনি ঘোষণা করেছিলেন দুটি আসনে লড়াই করার। ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, রেজিনগর আসনে ১,২৩,৫৩৬টি ভোট পেয়ে ৫৮,৮৭৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, নওদা আসনেও তৃণমূল প্রার্থী শাহিনা মমতাজ খানকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছেন তিনি, যেখানে তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৮৬,৪৬৩ এবং জয়ের মার্জিন ২৭,৯৪৩।
নির্বাচনী প্রচারের সময় বাবরী মসজিদ রক্ষা ও সংখ্যালঘু স্বার্থ নিয়ে তাঁর আপসহীন মন্তব্য নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেছিলেন, এই বিতর্ক তাঁর পথের কাঁটা হতে পারে। কিন্তু ভোটের ফলাফল স্পষ্ট করে দিল, মুর্শিদাবাদের আম জনতা তাঁর ওই লড়াকু মেজাজকেই পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। বিশাল জয়ের পর হুমায়ুন কবির জানান, “আমি মানুষের হকের কথা বলি। বাবরী থেকে শুরু করে অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে আমি আপস করিনি, করবও না। রেজিনগর আর নওদার মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছেন যে বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁরা আমার পাশেই আছেন।”
উল্লেখ যে , বারবার দলবদল (বিজেপি-তৃণমূল) করলেও মানুষের ওপর তাঁর যে প্রভাব ছিল, তা বিন্দুমাত্র কমেনি।
