নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব হলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার ফেসবুক লাইভে জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “আমার প্রথম দাবি, জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেফতার করতে হবে।”
মমতার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে গোটা বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদে থাকার যোগ্য নন বলেও দাবি করেন তিনি।
মমতা আরও বলেন, যতদিন জ্ঞানেশ কুমার ওই পদে থাকবেন, ততদিন তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলবে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।
জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে মমতার আরও দাবি, “তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো উচিত।” তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
এই প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি শাখার ডিআইজি পদে থাকা সীমা খান্নার নামও তোলেন মমতা। তাঁর দাবি, সীমা খান্নার ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন এবং তাঁর কথিত মদতদাতাদেরও গ্রেফতার করা দরকার।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সীমা খান্নার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, নির্বাচন কমিশনের অ্যাপে গোলযোগের বিষয়টি সীমা খান্না নিজেই স্বীকার করেছিলেন। SIR-এর সময় কমিশনের অ্যাপ ব্যবহার করে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করেন অভিষেক।
এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সীমা খান্নাকে নিশানা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সীমা খান্না নির্বাচন কমিশনের কেউ নন, বরং বিজেপির আইটি সেলের সঙ্গে যুক্ত—এমন অভিযোগও করেছিলেন মমতা।
বুধবারের বক্তব্যে সেই পুরনো অভিযোগগুলিই ফের সামনে আনেন তিনি। একইসঙ্গে জ্ঞানেশ কুমার এবং তাঁর কথিত মদতদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান মমতা।
মমতার বক্তব্য, এই ঘটনাগুলি নিয়ে দেশজুড়ে প্রতিবাদ হওয়া প্রয়োজন। তাঁর আহ্বান, বিরোধী দলগুলিকে একসঙ্গে এই ইস্যুতে আন্দোলনে নামতে হবে।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
