সকাল থেকে স্কুল, তারপর সেন্সাস! শিক্ষকদের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে রাজ্যকে কড়া প্রশ্ন হাই কোর্টের

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
2 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

স্কুলের পঠনপাঠন বন্ধ রেখে গণহারে শিক্ষকদের জনগণনা বা সেন্সাসের কাজে নামানোর নির্দেশ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট।  শিক্ষক নিয়োগ ও কাজের দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে একগুচ্ছ কড়া প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি, এই অচলাবস্থা কাটাতে অবিলম্বে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।  আগামী ১৮ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুল ছুটির পর শিক্ষক এবং তাঁদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে জনগণনার কাজ করার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শিক্ষক সংগঠনগুলি।  অল বেঙ্গল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, অনেক শিক্ষককে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে হয়।  এরপর স্কুল সামলে সেন্সাসের মতো গুরুদায়িত্ব পালন করা তাঁদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ছে।  তাছাড়া, একসঙ্গে অনেক শিক্ষককে এই কাজে লাগিয়ে দেওয়ায় বিদ্যালয়গুলির স্বাভাবিক পঠনপাঠন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তবে শিক্ষকেরা এই কাজে সহযোগিতা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকলেও, তা যেন প্রশাসনিকভাবে ‘অন ডিউটি’ হিসেবে গণ্য করা হয়, সেই আর্জিও জানানো হয়েছে।

এদিনের শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও রাজ্য প্রশাসনের পরিকল্পনাকে একহাত নেন।  শিক্ষক নিয়োগের আগে তাঁদের বায়োডেটা, কর্মস্থল ও বাসস্থানের দূরত্ব কেন খতিয়ে দেখা হলো না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।  শিক্ষকেরা সকাল থেকে স্কুল করার পর এবং শনিবারেও ক্লাস নেওয়ার পর কখন জনগণনার কাজ করবেন, তা নিয়ে রাজ্যের আইনজীবীর কাছে জবাব তলব করে আদালত। বিদ্যালয় স্তরে শিক্ষক সংকট এড়াতে এবং পড়াশোনা সচল রাখতে একসঙ্গে বহু শিক্ষককে না নিয়ে, প্রয়োজনে ‘রোটেশন‘ পদ্ধতিতে (চার-পাঁচ জন শিক্ষককে নিয়ে বা এক দিন অন্তর) কাজ করানোর পরামর্শ দিয়েছে হাই কোর্ট।

এই জটিলতা কাটাতে আদালতের তরফ থেকে একটি নির্দিষ্ট পথ বাতলে দেওয়া হয়েছে।  নির্দেশ অনুযায়ী, শিক্ষক সংগঠনগুলিকে শিক্ষকদের বাসস্থান, স্কুল এবং কাজের জায়গার দূরত্বের সমস্ত বিস্তারিত তথ্য অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল ধীরাজ ত্রিবেদীর কাছে জমা দিতে হবে।  সেই তথ্য হাতে পাওয়ার পর রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র এবং শিক্ষা দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা হবে।  আগামী মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির দিন এই বিষয়ে রাজ্যের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।