দিল্লি থেকে আলিপুরদুয়ারে ফেরার পথে সিকিম-মহানন্দা এক্সপ্রেসের বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরায় এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময় কামরাটি প্রায় ফাঁকা ছিল বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে অসমের বাসিন্দা গৌতম মাহাতোকে আলিপুরদুয়ার জংশনে গ্রেফতার করে GRP। শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে তদন্তের স্বার্থে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে নির্যাতিতা আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে চলন্ত ট্রেনে মহিলা যাত্রীদের নিরাপত্তা ও রেল পুলিশের নজরদারি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর কুড়ির ওই গৃহবধূ আলিপুরদুয়ারের শামুকতলা এলাকার বাসিন্দা। ব্যক্তিগত কাজে দিল্লিতে দিদির বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে একাই বাড়ি ফিরছিলেন। ট্রেনে প্রচণ্ড ভিড় থাকায় তিনি বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরায় উঠে পড়েন।
বৃহস্পতিবার রাতে ট্রেনটি হাসিমারা স্টেশনে পৌঁছনোর পর ওই কামরায় থাকা অন্যান্য যাত্রীরা নেমে যান বলে জানা গিয়েছে। ফলে কামরাটি প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। ওই সময় নির্যাতিতা এবং অভিযুক্ত গৌতম মাহাতোই সেখানে ছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।
অভিযোগ, হাসিমারা স্টেশন ছাড়ার পর ট্রেনটি আলিপুরদুয়ারের দিকে যাওয়ার সময় সুযোগ বুঝে ওই গৃহবধূর সঙ্গে অভব্য আচরণ শুরু করেন অভিযুক্ত। বাধা দেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি ফোনে স্বামীকে জানানোর চেষ্টা করেন ওই মহিলা। এমনকি তাঁকে স্টেশনে আসতেও বলেন। কিন্তু এরপর আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে।
এরপর অভিযুক্ত জোর করে তাঁকে কামরার বাথরুমে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। নির্যাতিতার দাবি, তিনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও অভিযুক্ত তাঁকে রেহাই দেয়নি। ঘটনার সময় তিনি বারবার চিৎকার করে সাহায্য চাইলেও কোনও রেলকর্মী বা যাত্রী তাঁর সাহায্যে এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ।
ঘটনার খবর কীভাবে রেল পুলিশের কাছে পৌঁছল, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। জানা গিয়েছে, ‘রেল মদত’ এর মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। খবর পাওয়ার পর আলিপুরদুয়ার জংশনে ট্রেনটির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে GRP ও RPF এর যৌথ দল।
রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ মহানন্দা এক্সপ্রেস আলিপুরদুয়ার জংশনে পৌঁছতেই নির্দিষ্ট কামরায় যায় রেল পুলিশের দল। সেখান থেকেই অভিযুক্তকে আটক করা হয়। পরে নির্যাতিতার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযোগের পর ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরাও হাসপাতালে পৌঁছন। বর্তমানে সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
শুক্রবার অভিযুক্তকে আলিপুরদুয়ার জেলা আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। GRP জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্যাতিতার বয়ান, মেডিক্যাল রিপোর্ট-সহ অন্যান্য তথ্যও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

