গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ওঠা গণহত্যার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি এই অভিযোগকে ‘এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা’ বলে দাবি করেন।
ঐদিন নেতানিয়াহু মঞ্চে উঠতেই অধিবেশনকক্ষে প্রতিবাদের ছবি দেখা যায়। বিভিন্ন দেশের বহু প্রতিনিধি তাঁর বক্তব্য বর্জন করে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাধারণ পরিষদের সভাপতি-কে বারবার শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানাতে হয়।
কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়া প্রতিনিধিদের উদ্দেশে নেতানিয়াহু বলেন, তাঁরা নৈতিকভাবে কাপুরুষ। এমনকি যারা এখনও কক্ষে রয়েছেন, তাঁদেরও বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গাজা প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল গণহত্যা চালায়নি, বরং গণহত্যা প্রতিরোধ করেছে। বেসামরিক মানুষকে রক্ষা করতে ইসরায়েল বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। গাজায় খাদ্য সরবরাহ এবং পোলিও টিকাদানের বিষয়ও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
তবে গাজায় মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। ত্রাণ সংস্থাগুলো গাজায় পর্যাপ্ত খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা প্রবেশের দাবি জানিয়ে আসছে।
ভাষণে ইরানের বিরুদ্ধেও সরব হন নেতানিয়াহু। ইরানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্তকে তিনি নিজের নেওয়া ‘সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্তগুলোর একটি’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ইসরায়েল শুধু নিজেদের নিরাপত্তার জন্য নয়, অন্য দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্যও লড়াই করছে।
নেতানিয়াহু তাঁর বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও প্রশংসা করেন। ইসরায়েলের প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
এ ছাড়া কাতার ও তুরস্কের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ তোলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। হামাসকে সমর্থন ও ইসরায়েলবিরোধী প্রচারের অভিযোগে তিনি দেশ দুটির সমালোচনা করেন।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকেও আক্রমণ করেন নেতানিয়াহু। মামদানি এর আগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। নেতানিয়াহু তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তাঁকে কেউ চুপ করাতে পারবে না।
নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় জাতিসংঘের বাইরে বিক্ষোভও হয়। কয়েক শ বিক্ষোভকারী গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহের প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভ থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে।
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের আগে বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও ফিলিস্তিনিদের পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাঁর ভাষণকে ঘিরে অধিবেশনকক্ষে ওয়াকআউট ও বাইরে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
