দীর্ঘ সাত বছরের দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে অবশেষে ভারতের মাটিতে পা রাখলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিক্স (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার সকালে এসে পৌঁছন চিনা রাষ্ট্রপ্রধান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিশেষ আমন্ত্রণেই তাঁর এই দিল্লি সফর। চলতি মাসের ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের হাই-প্রোফাইল ব্রিক্স সম্মেলন, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই তুঙ্গে বৈশ্বিক রাজনীতির পারদ।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শি জিনপিংয়ের এই সফর ভারত ও চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। এর আগে ২০১৯ সালে শেষ বার ভারতে এসেছিলেন জিনপিং। তারপর ২০২০ সালের পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দু’দেশের সেনাবাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর দীর্ঘ সময় ধরে নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের সম্পর্কে চরম টানাপোড়েন চলছিল। সীমান্তে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছিল দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কূটনৈতিক স্তরেও। তবে ২০২৪ সালের পর থেকে সীমান্ত পরিস্থিতি সামলাতে ও স্থিতাবস্থা ফেরাতে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে একাধিক পর্যায় আলোচনা চালানো হয়। ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে চেষ্টা শুরু হয়েছিল, জিনপিংয়ের এই সফর তারই এক বড় প্রতিফলন।
এই বিশেষ আবহেই শি জিনপিংয়ের দিল্লি সফরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে আন্তর্জাতিক মহল। সম্মেলন চলাকালীনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে চিনা প্রেসিডেন্টের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (LAC) থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, ঝুলে থাকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পুনরুজ্জীবিত করা এবং দুই দেশের সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল করার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় টেবিল টকে উঠে আসতে পারে।
শুধু তাই নয়, চিনা প্রেসিডেন্ট দিল্লিতে পা রাখার আগেই বেজিংয়ের তরফ থেকে ভারতকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও নরম বার্তা দেওয়া হয়েছে। ভারতে নিযুক্ত চিনের রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং একটি বিশেষ বার্তায় জানিয়েছেন, চিন ভারতকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে আন্তরিকভাবে ইচ্ছুক। দুই দেশকে আগামী দিনে প্রকৃত ‘বন্ধু ও ভাল প্রতিবেশী’ হিসেবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চিনা রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ।
শুধু BRICS-এর সদস্য দেশগুলিই নয়, এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষকর্তারাও। ফলে বাণিজ্য, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা থেকে শুরু করে বিশ্ব রাজনীতির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে দিল্লির BRICS সম্মেলন শুধু সদস্য দেশগুলির বৈঠকে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দেশকে এক জায়গায় এনে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বার্তাই দিচ্ছে।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
