বাংলার রাজভবনে এক অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে শুরু হলো নতুন এক অধ্যায়ের শুরু। বুধবার দুপুরেই কলকাতা ছেড়েছেন বিদায়ী রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিলোত্তমায় পা রাখলেন পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি।
আজ সন্ধ্যা ৭টার কিছু পরে তিনি সপরিবারে কলকাতার লোকভবনে প্রবেশ করেন। বিমানবন্দর থেকে তাঁর কনভয় লোকভবনে পৌঁছলে রাজ্য সরকারের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক এবং লোকভবনের আধিকারিকবৃন্দ তাঁকে পুষ্পস্তবক দিয়ে আন্তরিকভাবে অভ্যর্থনা জানান।
লোক ভবন সূত্র খবর, আগামীকাল, ১২ মার্চ ২০২৬, রাজ্যের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন শ্রী আর. এন. রবি। আগামীকাল সকাল ১১টা ২০ মিনিটে লোক ভবনে পৌঁছানোর পর নবনিযুক্ত রাজ্যপালকে সশ্রদ্ধ ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হবে। এরপর সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে লোক ভবনের সর্দার প্যাটেল ইউনিটি হলে মূল শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে। কলকাতা হাইকোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতি শ্রী সুজয় পাল নবনিযুক্ত রাজ্যপালকে পদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।
প্রাক্তন রাজ্যপাল সি. ভি. আনন্দ বোসের পদত্যাগের পর তামিলনাড়ুর প্রাক্তন রাজ্যপাল আর. এন. রবিকে বাংলার স্থায়ী রাজ্যপাল হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। আরএন রবি এর আগে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল পদে নিযুক্ত ছিলেন। তবে আর. এন. রবির নিয়োগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল থাকাকালীন মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে সরকারের সঙ্গে তাঁর চরম সংঘাত বারংবার শিরোনামে এসেছে। বিধানসভায় পাস হওয়া একাধিক বিলে সই না করা নিয়ে স্ট্যালিন তাঁকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে আক্রমণ করেছিলেন। এমনকি সেই সংঘাতের জল গড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত।
বাংলার রাজভবনের সঙ্গে নবান্নের সংঘাত নতুন কিছু নয়। জগদীপ ধনখড় থেকে সিভি আনন্দ বোস, বারংবার রাজ্য ও রাজ্যপাল সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। এই প্রেক্ষাপটে তামিলনাড়ুতে ‘সংঘাতের তকমা’ পাওয়া আর. এন. রবি বাংলার প্রশাসনিক অলিন্দে কতটা সমন্বয় বজায় রেখে চলেন, এখন সেটাই দেখার রাজ্যবাসীর।

