ধর্ষণের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত স্বঘোষিত গুরু গুরমিত রাম রহিম সিং ফের প্যারোলে ছাড়া পেলেন। এর আগে হরিয়ানার রোহতকের জেল থেকে ৪০ দিনের প্যারোলের অনুমতি পেয়েছিলেন ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত গুরমিত রাম রহিম সিং। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র চার মাসের মাথায় আবারও ৩০ দিনের জন্য কারাগারের বাইরে থাকার অনুমতি পেলেন ডেরা সচ্চা সৌদা প্রধান। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর মঙ্গলবার সকালেই রোহতকের সুনারিয়া জেল থেকে কড়া সুরক্ষায় বের হন তিনি। জেল থেকে ছাড়া পেয়েই তিনি সোজা সিরসায় নিজের ডেরা সচ্চা সৌদার সদর দপ্তরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সূত্রে জানা গেছে, সিরসার জেলাশাসকের কাছ থেকে অনুমতি মেলার পরই তাঁকে ডেরায় থাকার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ বন্দিদের ক্ষেত্রে যেখানে প্যারোল পাওয়া অত্যন্ত জটিল এবং দুরূহ বিষয়, সেখানে রাম রহিমের মতো একজন হাই-প্রোফাইল অপরাধীকে কেন বার বার জেলের বাইরে আসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই হরিয়ানা সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সমালোচকরা। যদিও ডেরার মুখপাত্র তথা আইনজীবী জিতেন্দ্র খুরানার দাবি, কোনো বিশেষ অনুকম্পা বা রাজনৈতিক সুবিধা নয়, বরং সম্পূর্ণ আইনি অধিকারের ভিত্তিতেই রাম রহিমকে এই প্যারোলে ছাড়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ২৪ জুন তাঁকে পুনরায় সুনারিয়া জেলে ফিরে যেতে হবে।
২০১৭ সালে দুই সাধ্বীকে ধর্ষণের অভিযোগে পঞ্চকুলার বিশেষ সিবিআই আদালত রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করে ২০ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। সেই থেকে তিনি সুনারিয়া জেলে বন্দি রয়েছেন। তবে শুধু ধর্ষণই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সাংবাদিক খুনের অভিযোগও আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। ডেরার ভেতরে চলা যৌন কেলেঙ্কারির খবর সাহসিকতার সাথে সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করায় ২০০২ সালে খুন হতে হয়েছিল সাংবাদিক রাম চন্দর ছত্রপতিকে। ২০১৯ সালে সিবিআই আদালত এই সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডেও রাম রহিমসহ আরও তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এছাড়া ডেরার প্রাক্তন ম্যানেজার রণজিৎ সিং খুনের মামলাতেও ২০২১ সালে নিম্ন আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন সাজা শুনিয়েছিল, যদিও পরবর্তীতে উচ্চ আদালত তাঁকে এই নির্দিষ্ট মামলাটি থেকে খালাস দেয়। কিন্তু ধর্ষণ এবং সাংবাদিক খুনের মতো দুটি অত্যন্ত সংবেদনশীল মামলায় তাঁর সাজা এখনও বহাল রয়েছে।
অপরাধী ঘোষিত হওয়ার পর ২০২০ সালের ২৪ অক্টোবর প্রথমবার মাত্র এক দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন রাম রহিম। তারপর থেকে গত সাত বছরে তাঁর জেলের বাইরে আসার সিলসিলা অব্যাহত রয়েছে। ২০২১ সালের মে মাসে মাত্র ১২ ঘণ্টার জন্য জেলের বাইরে আসার পর, ২০২২ সালে তিনি তিন দফায় যথাক্রমে ফেব্রুয়ারি মাসে ২১ দিন, জুনে ৩০ দিন এবং অক্টোবরে ১৪ দিনের জন্য প্যারোল পান। ২০২৩ সালেও এই ধারা বজায় থাকে, যেখানে জানুয়ারি মাসে ৪০ দিন, জুলাইতে ৩০ দিন এবং নভেম্বরে ২১ দিনের জন্য তিনি মুক্তি পান। ২০২৪ সালে জানুয়ারি মাসে সর্বোচ্চ ৫০ দিন, আগস্টে ২১ দিন এবং অক্টোবরে ২০ দিন জেলের বাইরে কাটান ডেরা প্রধান। এরপর ২০২৫ সালেও তিনি তিন দফায় জানুয়ারি মাসে ৩০ দিন, এপ্রিলে ২১ দিন এবং আগস্টে ৪০ দিনের জন্য প্যারোল পান। চলতি ২০২৬ সালের শুরুতেই অর্থাৎ জানুয়ারি মাসে ৪০ দিন জেলের বাইরে কাটানোর পর, মে মাসে আবারও ৩০ দিনের জন্য তিনি জেলের বাইরে এলেন। সব মিলিয়ে গত সাত বছরে মোট ১৬ বার কারাগারের বাইরে বের হলেন এই বিতর্কিত স্বঘোষিত গুরু।
