যেখানে কেন্দ্র সরকারের ছুটির কথা ঘোষণা রয়েছে, এবার সেই নির্দেশকে একপ্রকার বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়। পবিত্র ঈদুল আজহা বা বকরিদের দিনেও সেমিস্টার পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে উৎসবের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে মুসলিম শিক্ষার্থীদের। এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবার সরাসরি দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক ছাত্র।
ইন্টিগ্রেটেড ল’ কোর্সের ষষ্ঠ সেমিস্টারের ওই শিক্ষার্থী আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করে জানিয়েছেন, সরকার ঈদের ছুটি ২৮ মে ২০২৬ তারিখে স্থানান্তর করার পর সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সেই ছুটি মেনে নিলেও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ২৫ মে জারি করা এক মেমোরেন্ডামে সেদিনই পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
মামলাকারী ছাত্রের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই অনমনীয় মনোভাব শুধু স্বেচ্ছাচারীই নয়, বরং চরম বৈষম্যমূলক। যেখানে উৎসবের দিনে উৎসবে শামিল হওয়ার কথা, সেখানে কর্তৃপক্ষের এমন হঠকারী সিদ্ধান্তে মুসলিম পড়ুয়ারা মারাত্মক মানসিক চাপের মুখে পড়েছেন। একদিকে বছরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসবের ধর্মীয় আচার, অন্যদিকে পরীক্ষা এই দুইয়ের মাঝে দিশেহারা হয়ে পড়েছে মুসলিম পড়ুয়ারা।
দাবি করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নির্দেশ ভারতীয় সংবিধানের ১৪, ২১, ২৫ এবং ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদকে লঙ্ঘন করে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হানার শামিল। সেই কারণেই উৎসবের দিনের এই পরীক্ষা স্থগিত রেখে অন্য কোনো তারিখে তা নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে আদালতে। ইতিমধ্যেই যদিও দিল্লি হাইকোর্ট মামলাটি গ্রহণ করেছে।
