রাজস্থানের জয়সলমেরে পৌরসভার আস্তাকুঁড়ে শত শত মৃত গরুর দেহ পড়ে থাকার ঘটনা ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে Ramgarh Road এলাকার ওই ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ৫০০-রও বেশি গরুর পচাগলা মৃতদেহ খোলা আকাশের নিচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর সাধারণ মানুষ, পশুপ্রেমী সংগঠন এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যে দেশে গরুকে ধর্মীয়ভাবে “মাতা” হিসেবে তুলে ধরা হয় এবং শাসক দল কেন্দ্র ও রাজ্যে গোরক্ষাকে বড় রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করে, সেখানে শত শত গরুর দেহ কীভাবে আবর্জনার মতো ফেলে রাখা হল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় ভবঘুরে গরুর সংখ্যা বাড়ছিল। খাবার, পানি ও চিকিৎসার অভাবে বহু গরু অসুস্থ হয়ে পড়ছিল এবং অনেক গরু প্লাস্টিক ও আবর্জনা খেয়ে মারা যাচ্ছিল। অথচ গরু সুরক্ষা ও গৌশালার নামে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি করা হলেও বাস্তবে সেই পশুগুলির জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয় বা পরিচর্যার ব্যবস্থা নেই। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন কয়েকজন স্থানীয় গরুপ্রেমী শনিবার ওই ডাম্পিং ইয়ার্ডে গিয়ে বিপুল সংখ্যক মৃত গরুর দেহ দেখতে পান। পরে তারা ভিডিও ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন এবং রবিবার সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র জনরোষ তৈরি হয়।
অভিযোগ উঠেছে, মৃত পশু সংগ্রহ ও নিষ্পত্তির জন্য পৌরসভার তরফে যে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছিল, সে নিয়ম মেনে দেহগুলিকে মাটিচাপা না দিয়ে খোলা জায়গায় ফেলে রেখেছিল। ফলে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে মৃত গরুর দেহ জমতে থাকে এবং পুরো এলাকা দুর্গন্ধ ও দূষণে ভরে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই ঘটনা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, গরু সুরক্ষার নামে চলা রাজনৈতিক প্রচারের বাস্তব চিত্রও সামনে এনে দিয়েছে।
ঘটনার পর জয়সলমেরের জেলা প্রশাসন তদন্তের নির্দেশ দেয়। জেলা কালেক্টর Anupama Jorwal পুরো ঘটনার রিপোর্ট তলব করেন। অন্যদিকে পৌরসভার কমিশনার Lajpal Singh Sodha জানান, মৃত পশু নিষ্পত্তির দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার যথাযথভাবে কাজ করেনি বলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং তার চুক্তি স্থগিত বা বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে JCB মেশিন এনে মৃত গরুগুলিকে বড় গর্ত খুঁড়ে মাটিচাপা দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়।
ঘটনাটি নিয়ে Barmer–Jaisalmer–Balotara এলাকার সাংসদ Ummeda Ram Beniwal তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এই দৃশ্য “ভয়ঙ্কর, লজ্জাজনক ও হৃদয়বিদারক”। তিনি অভিযোগ করেন, বহু গরু অনাহার, তৃষ্ণা ও প্লাস্টিক খেয়ে মারা গেছে এবং গরু সুরক্ষার নামে বরাদ্দ অর্থ কোথায় খরচ হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একইসঙ্গে তিনি প্রশাসনের জবাবদিহি ও রাজস্থানে ভবঘুরে গবাদি পশুর জন্য উন্নত আশ্রয়, খাবার, পানি ও চিকিৎসার দাবি জানান।
জয়সলমেরের এই ঘটনা আবারও সামনে এনে দিল, শুধুমাত্র ধর্মীয় আবেগ বা রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বাস্তবে গবাদি পশুর সুরক্ষা ও পরিচর্যার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা কতটা জরুরি।

