মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে যখন দেশজুড়ে বিতর্ক এবং তাঁর পদত্যাগের দাবি তুলছে বিরোধীরা, ঠিক সেই সময় তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে সরব হলেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
শুক্রবার পানিহাটিতে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়ে জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে মুখ খোলেন শমীক। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন পর এমন একটি নির্বাচন হয়েছে যেখানে ভোটের আগে, ভোটের সময় এবং ভোটের পরে হিংসার ঘটনা বন্ধ হয়েছে। মানুষ নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
শমীকের কথায়, “জ্ঞানেশ কুমারকে অন্ততপক্ষে পদ্মভূষণ সম্মান দেওয়া উচিত।” তাঁর দাবি, এটি তাঁর ব্যক্তিগত কথা নয়, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কণ্ঠস্বর। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের সাধারণ মানুষ জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকার প্রশংসা করছেন এবং তাঁর পাশে রয়েছেন।
ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় বহু বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর নাম ছিল। SIR প্রক্রিয়ায় সেই নামগুলি বাদ দেওয়ার কাজ হয়েছে বলে দাবি করে তিনি এর জন্যও জ্ঞানেশ কুমারের প্রশংসা করেন।
শমীক বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্য। তাই ভোটার তালিকা সংশোধন এবং প্রকৃত ভোটারদের নাম নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকার কারণেই রাজ্যে মানুষ আরও নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছেন।
তবে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতির ছবি বর্তমানে সম্পূর্ণ অন্যরকম। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই SIR, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং ভোটার সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মতবিরোধের দাবি করা হয়েছে। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির কথাও ওই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে কমিশনের মধ্যে মতবিরোধ বা মনোমালিন্যের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
এই আবহেই কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং তাঁর পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। আর সেই সময়ই সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের প্রশংসায় সরব হলেন শমীক ভট্টাচার্য।
এদিন রাহুল গান্ধি ও তৃণমূল কংগ্রেসকেও নিশানা করেন শমীক। রাহুলকে কটাক্ষ করে তাঁর দাবি, কংগ্রেসই তাঁকে গুরুত্ব দিতে চায় না। তৃণমূলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, দলটি বর্তমানে ‘মৃত’ দলে পরিণত হয়েছে।
পাশাপাশি তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা নেতা-কর্মীদের নিয়েও কড়া বার্তা দেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, গলায় গেরুয়া গামছা জড়িয়ে বা গেরুয়া আবির মেখে কেউ বিজেপির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করলেই তাঁকে দলে নেওয়া হবে না। বিজেপিতে কোনওভাবেই ‘তৃণমূলীকরণ’ হবে না বলেও বার্তা দেন তিনি।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
