শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে যখন একের পর এক জটিলতা তৈরি হচ্ছে, ঠিক সেই সময় পশ্চিমবঙ্গ সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশন (WBCSSC) এর কাজের পরিধিতে যুক্ত হলেন চার নতুন সদস্য। ১১ অগস্ট স্কুল শিক্ষা দফতরের জারি করা সরকারি নির্দেশে তাঁদের নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে। নতুন সদস্যদের মধ্যে রামকৃষ্ণ মিশনের তিনজন এবং আইআইএম কলকাতার একজন অধ্যাপক রয়েছেন।
সরকারি নথি অনুযায়ী, স্বামী আত্মপ্রিয়ানন্দ, স্বামী শাস্ত্রজ্ঞানন্দ, স্বামী তত্ত্বসারানন্দ এবং অধ্যাপক রম্যা তারাকাদ ভেঙ্কটেশ্বরনকে কমিশনের সদস্য করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন আইন, ১৯৯৭ এর ৩(৪) ধারায় রাজ্যপালের ক্ষমতাবলে এই নিয়োগ হয়েছে। নির্দেশ কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তাঁরা কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নতুন সদস্যদের মধ্যে স্বামী আত্মপ্রিয়ানন্দ রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ এডুকেশনাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রো-চ্যান্সেলর ও সচিব। স্বামী শাস্ত্রজ্ঞানন্দ নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সচিব। স্বামী তত্ত্বসারানন্দ বেলুড় মঠের ট্রাস্টি হওয়ার পাশাপাশি রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অফ কালচারের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে অধ্যাপক রম্যা তারাকাদ ভেঙ্কটেশ্বরন আইআইএম কলকাতার স্ট্র্যাটেজিক ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের অধ্যাপক।
এই নতুন নিয়োগের মধ্যেই SSC র সামনে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। গত বছরের শিক্ষক নিয়োগে প্রায় ৩৯ হাজার প্রার্থীর মধ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজারের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। ২০১৬ সালের আপার প্রাইমারির বকেয়া ১,১৭৭টি নিয়োগের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে বলেও কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ শিক্ষকের ৬৭৯টি পদের মধ্যে ৩০৮ জনের জন্য ইতিমধ্যেই সুপারিশপত্র দেওয়া হয়েছে।
এদিকে একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি প্রার্থীদের মধ্যে। তবে ১৪ অগস্ট সুপারিশপত্র দেওয়ার কথা থাকলেও OBC সংরক্ষণ নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে সেই কাজ শুরু হবে কি না, তা এখনও কেঁউ নিশ্চিত নয়। তাই বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের পরামর্শ নিচ্ছে কমিশন। তাঁদের মতামত পাওয়ার পরই ১৪ অগস্টের কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে।
এর মধ্যেই SSC তে চার নতুন সদস্য যোগ হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগোবে বলে আশা করা হচ্ছে। বকেয়া নিয়োগ শেষ করার পাশাপাশি চলতি নিয়োগের জট কাটানোই এখন কমিশনের বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন সদস্যদের যোগদানের পর সেই কাজ কতটা দ্রুত এগোয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

