মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবার ছবি ও কুশপুতুল পোড়ানোর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় এই ঘটনায় সরাসরি কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে (CP) কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ রাজ্যে কোনওভাবেই সাধু-সন্ত ও গেরুয়া পোশাকের অপমান বরদাস্ত করা হবে না। সম্প্রতি, বঙ্গ সফরে এসে দুর্গাপুজোয় আমিষ আহার গ্রহণকারীদের নিয়ে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেন বাগেশ্বর বাবা। যা নিয়ে রাজ্য জুড়ে তুমুল আলোড়ন তৈরি হয় এবং কলকাতার ভবানীপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। এর প্রতিবাদে ভবানীপুর থানার সামনেই বাগেশ্বর বাবার ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখায় একদল আন্দোলনকারী।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বৃহস্পতিবার বিধানসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “লিলুয়ায় একজন সন্ত এসেছিলেন। তিনি তাঁর নিজস্ব ধারায় দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ এবং অখণ্ড ভারতের বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি তো কারও ওপর জোর করে কিছু চাপিয়ে দেননি! অথচ এক শ্রেণির লোক ভবানীপুর থানার সামনে তাঁর ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখাল!”
এরপরেই ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভবানীপুর থানার সামনে যাঁরা ছবি পুড়িয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।” একই সঙ্গে বিরোধী শিবিরকে নিশানা করে তিনি যোগ করেন, রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা তুষ্টিকরণের রাজনীতির দিন এবার শেষ। গেরুয়া রঙ কিংবা সাধু সমাজকে অসম্মান করার আগে সকলকে সতর্ক হতে হবে।
উল্লেখ্য, বাগেশ্বর বাবার এই আমিষ-বিরোধী মন্তব্য নিয়ে ইতিপূর্বে দূরত্ব বজায় রেখেছিল বিজেপির একাংশও। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে সুকান্ত মজুমদাররা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, বহিরাগত কারও কথায় বাঙালি তার খাদ্যাভ্যাস বদলাবে না।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
