আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া NEET-UG পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার টেলিগ্রাম অ্যাপটি সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। ২২ জুন পর্যন্ত সারা দেশে টেলিগ্রাম ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের পরই তীব্র বিতর্কের ঝড় উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সাধারণ মানুষের কাছেই থেমে থাকেনি এবার খোদ টেলিগ্রামের সিইও পাভেল দুরভের মন্তব্য করেন। তিনি শুধু এই নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেননি, বরং ভারতের বড় টেলিকম কোম্পানি রিলায়েন্সের দিকেও আঙুল তুলেছেন।
টেলিগ্রামের সিইও পাভেল দুরভ নিজস্ব এক্স হ্যান্ডলে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, “ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক এক সপ্তাহের জন্য টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ করেছে ঠিকই, কিন্তু এর ফলে কোনো অপরাধী ধরা পড়ছে না। বরং ভারতে টেলিগ্রাম ব্যবহারকারী ১৫ কোটিরও বেশি সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।” তাঁর মতে, যারা প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যুক্ত, তারা অলরেডি অন্য কোনো মেসেজিং অ্যাপে চলে গিয়েছে। তাই সরকার যে উদ্দেশ্যে এই অ্যাপ বন্ধ করেছে, তা পুরোপুরি সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম।
সবচেয়ে বিস্ফোরক মন্তব্যটি আসে যখন দুরভ ভারতের টেলিকম সংস্থা ‘রিলায়েন্স’-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, রিলায়েন্সের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতের বাইরের ব্যবহারকারীদের টেলিগ্রাম ব্যবহার করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
সবচেয়ে বিস্ফোরক মন্তব্যটি আসে যখন দুরভ ভারতের টেলিকম সংস্থা ‘রিলায়েন্স’ এর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, রিলায়েন্সের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতের বাইরের ব্যবহারকারীদের টেলিগ্রাম ব্যবহার করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। দুরভ সরাসরি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, হোয়াটসঅ্যাপের মূল কোম্পানি ‘মেটা’ র সঙ্গে রিলায়েন্সের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর কথায়, “ভারতে টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ করার পেছনে যদি রিলায়েন্স বা হোয়াটসঅ্যাপের কোনো ব্যবসায়িক স্বার্থ থাকে, তবে আমি মোটেও অবাক হব না।” তিনি অভিযোগ করেন, ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য হয়তো নেটওয়ার্ক অপারেটরদের ব্যবহার করে টেলিগ্রামকে ভারতের বাজার থেকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে।
অ্যাপ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি সরকার টেলিগ্রামকে মেসেজ এডিটের সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখারও নির্দেশ দিয়েছে। সরকারের ভয়, পুরোনো মেসেজ এডিট করে কেউ যাতে প্রশ্নফাঁসের ভুয়া প্রমাণ তৈরি করতে না পারে। তবে ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত কঠোর বলে মনে করছে। তাদের মতে, গোটা একটি প্ল্যাটফর্ম বন্ধ না করে আরও সূক্ষ্ম উপায়ে সমস্যার সমাধান করা যেত।

