রাজ্যে বাড়ল সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের ভাতা। বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের ভাতা মাসে ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছে। প্রতি মাসে ভাতার পরিমাণ বাড়ল ৫০০ টাকা। সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর থেকেই বর্ধিত হারে ভাতার টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু করেছে রাজ্য সরকার।
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে উপকৃত হবেন ৮২ লক্ষেরও বেশি যোগ্য উপভোক্তা। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ৭ সেপ্টেম্বর থেকে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে অধিকাংশ যোগ্য উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বর্ধিত ভাতার টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে।
বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, বিশেষভাবে সক্ষম এবং স্বামীহীনাদের জন্য ১০০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা ভাতা বৃদ্ধির Direct Benefit Transfer বা DBT -র মাধ্যমে সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে। তাই উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং DBT সংক্রান্ত ম্যাপিং সঠিক থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ৭ সেপ্টেম্বর থেকেই টাকা পাঠানো শুরু হলেও সবার অ্যাকাউন্টে একই দিনে টাকা জমা পড়বে এমন নয়। টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন হতে পারে। তাই প্রথম দিন অ্যাকাউন্টে টাকা না এলেই ভাতা বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
অ্যাকাউন্টে টাকা না এলে কী করবেন?
টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরেও যদি আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা না আসে, তবে ঘাবড়ে না গিয়ে নিচের বিষয়গুলো ধাপে ধাপে যাচাই করে নিতে পারেন —
১. কিছুদিন অপেক্ষা করুন। ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ভাতা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে অধিকাংশ যোগ্য উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়া। তাই কিছুটা সময় দিতে পারেন।
২. DBT স্ট্যাটাস যাচাই করুন।আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে DBT (Direct Benefit Transfer) পরিষেবা সক্রিয় রয়েছে কি না এবং সরকারি সুবিধার জন্য আপনার ঠিক কোন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি যুক্ত (Mapped) রয়েছে, তা চেক করে নিন।
৩. ব্যাঙ্কের তথ্য ও আধার সিডিং চেক করুন। আধার কার্ডের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ম্যাপিং বা সিডিংয়ে কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, তা আপনার সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে গিয়ে যাচাই করে নিতে পারেন।
উল্লেখ্য, বার্ধক্য, বিধবা এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য ভাতা বৃদ্ধির ফলে রাজ্যের ৮২ লক্ষের বেশি যোগ্য উপভোক্তা সরাসরি উপকৃত হবেন। মাসিক ভাতা ১,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১,৫০০ টাকা হওয়ায় বছরে প্রত্যেক যোগ্য উপভোক্তা আগের তুলনায় ৬,০০০ টাকা বেশি পাবেন।

