বিহার ও আসামের পর এবার শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকেও ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ২৪ জুলাই কলকাতার ধর্মতলায় NEET (UG) পরীক্ষার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভের জেরে পুলিশ অন্তত ১৬ জন আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করেছিল। তবে সরকারি নির্দেশিকা আসার আগেই ব্যাঙ্কশাল আদালত তাঁদের সকলকে ৫০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন মঞ্জুর করে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে আন্দোলনকারী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি‘ (সিজেপি)-র ধারাবাহিক চাপ এবং কেন্দ্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গত ২৭ জুলাই সিজেপি বিভিন্ন রাজ্যে ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা ইতিপূর্বে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা সমস্ত মামলা প্রত্যাহার এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে কেন্দ্রকে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয় তারা। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও আসামে আটক আন্দোলনকারীদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে।
মঙ্গলবারের মধ্যে সমস্ত বন্দির মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহার করা না হলে দেশব্যাপী নতুন আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল সিজেপি। এই ঘোষণার পরই প্রথমে বিহার সরকার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির উদ্যোগ নেয়। পরবর্তীতে আসাম সরকারও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানায় যে, সেখানে আন্দোলনকে ঘিরে দায়ের হওয়া পাঁচটি মামলায় আটক ১৩ জনকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে চার দফা নির্দেশনা জারি করা হয়। আসাম ও বিহারের পথ অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারও একই প্রক্রিয়া শুরু করে।
ইতিমধ্যে গত ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পাহাড়ি বিষয়ক দপ্তর (Home & Hill Affairs Department) থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, ২৬ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত রাজ্য পুলিশের দায়ের করা নির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতে NEET পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ১৬ জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন ‘শৈলেন্দ্র মনি ত্রিপাঠী বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া ও অন্যান্য’ মামলার ২৮ জুলাইয়ের আদেশের প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সার্বিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছে।
নতুন সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রকৃত ছাত্র-আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর বা দমনমূলক পদক্ষেপ (Coercive Measures) নেওয়া হবে না। তবে রাজ্যের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে যাদের বিরুদ্ধে পূর্বে অপরাধমূলক রেকর্ড (Criminal Antecedents) রয়েছে, এই সুরক্ষার পরিধি তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।


