চাকরি করতে করতেই এ বার ফের শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষার মুখোমুখি হতে চলেছেন রাজ্যের বহু প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে কর্মরত বা ইন-সার্ভিস শিক্ষকদের জন্য টেট (TET) আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য সরকার। আগামী ২০২৮ সালের ৩১ অগস্টের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের কাছে সম্ভাব্য দিনক্ষণ জানতে চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে স্কুলশিক্ষা দফতর।
এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে শিক্ষক মহলে। বিভিন্ন হিসেব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে ৯০ হাজারেরও বেশি কর্মরত শিক্ষক এখনও টেট উত্তীর্ণ নন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করছেন। ফলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেট পাশ করতে না পারলে তাঁদের চাকরির ভবিষ্যৎ কী হবে?
স্কুলশিক্ষা দফতরের নির্দেশ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদও। পর্ষদ সূত্রে খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ২০২৮ সালের অগস্টের মধ্যে টেট আয়োজনের জন্য সম্ভাব্য সময়সূচি তৈরি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কবে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষা দফতরকে জানানো হবে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক স্তরে কর্মরত টেট-অনুত্তীর্ণ শিক্ষকদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টেট পাশ করতে হবে। তবে যাঁদের অবসরের আর পাঁচ বছর বা তার কম সময় বাকি রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। অন্য দিকে, সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশের প্রযোজ্যতা নিয়ে পৃথক আইনি অবস্থান রয়েছে।
শিক্ষকদের একাংশের অবশ্য প্রশ্ন, যাঁরা টেট চালুর বহু আগে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের কেন এখন এই পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে? রাজ্যে ২০১১ সালের জুলাই থেকে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে টেট বাধ্যতামূলক করা হয়। তার আগে যাঁরা শিক্ষকতায় যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের নিয়োগের সময় এই যোগ্যতা পরীক্ষার কোনও বাধ্যবাধকতা ছিল না। সেই কারণেই পুরনো শিক্ষকদের একাংশ শুরু থেকেই এই নিয়মের বিরোধিতা করে আসছেন।
আরও একটি বড় উদ্বেগ রয়েছে প্রবীণ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে। দীর্ঘ ১৫-২০ বছর আগে চাকরিতে যোগ দেওয়া অনেক শিক্ষকের বর্তমান টেট পরীক্ষায় বসার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতা রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বর্তমান নিয়মে ডি.এল.এড, বি.এড-সহ বিভিন্ন যোগ্যতার বিষয় রয়েছে। ফলে বিশেষ ব্যবস্থায় কর্মরত শিক্ষকদের পরীক্ষা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশিকার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।
শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশের আশঙ্কা, শুধুমাত্র পরীক্ষা আয়োজন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বিপুল সংখ্যক কর্মরত শিক্ষককে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া, তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ম নির্ধারণ এবং একাধিকবার পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কর্মরত শিক্ষকরা যাতে পর্যাপ্ত সুযোগ পান, সে জন্য বছরে একাধিকবার টেট নেওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতি ছ’মাস অন্তর পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব কি না, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
এর আগে টেট বাধ্যতামূলক করার সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবিতে রিভিউ পিটিশন করা হয়েছিল। কিন্তু শীর্ষ আদালত তার অবস্থান থেকে সরে আসেনি। ফলে ২০২৮ সালের ৩১ অগস্টের সময়সীমাকে সামনে রেখে এখন পরীক্ষার প্রস্তুতিই শুরু করেছে রাজ্য।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও কর্মরত শিক্ষক টেট পাশ করতে না পারলে তাঁর চাকরির ক্ষেত্রে ঠিক কী প্রভাব পড়বে? শিক্ষা দফতরের পরবর্তী বিস্তারিত নির্দেশিকা এবং পরীক্ষার নিয়মাবলি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
তবু শুক্রবারের এই পদক্ষেপের পর রাজ্যের ৯০ হাজারেরও বেশি টেট-অনুত্তীর্ণ কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকার সামনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
