মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের মুদ্রাবাজারেও। জ্বালানি আমদানির খরচ বাড়ার আশঙ্কা এবং ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভারতীয় টাকার মান ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।
ভারতীয় মূদ্রার এমন হাল নতুন কিছু নয় মোদি শাসনকালেই এরকম দৃশ্য দেখা গেছে ভারতীয় টাকায়। মাত্র কয়েক দিনে ভেঙেছে আগের রেকর্ড, প্রতি ডলারের দাম পৌঁছেছে ভারতীয় টাকায় যার দাম ৯২ টাকা ৪৮ পয়সায়।
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি সরকার যখন ক্ষমতায় এসেছিল, তখন ১ ডলারের দাম ছিল প্রায় ৫৮ টাকা ৫৬ পয়সা। গত ১১ বছরে রুপির এই বিশাল অবমূল্যায়ন নিয়ে এখন দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এছাড়াও ভারতীয় টাকার দামে লাগাতার ছন্দপতনের প্রশ্নের মুখে পড়লেও কেন্দ্রীয় সরকারের এবিষয়ে কোনোরকম পদক্ষেপ দেখা যায়নি। টাকার মানের পতনের খবর প্রতিনিয়ত উঠে এসেছে একের পর এক।
ডলারের বিপরীতে টাকার দাম হুড়মুড়িয়ে পড়ার পেছনে মূলত চারটি বড় কারণ কাজ করছে-
প্রথমত, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের বেশির ভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করে, আর এই তেলের দাম মেটাতে প্রচুর ডলারের প্রয়োজন হয়। বাজারে ডলারের এই বাড়তি চাহিদাই টাকার দামকে কমিয়ে দিচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, বিদেশি বড় বড় বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে ক্রমাগত তাদের টাকা তুলে নিচ্ছেন এবং নিরাপদ মনে করে ডলারে বিনিয়োগ করছেন, ফলে বাজারে ডলারের সংকট দেখা দিয়েছে।
তৃতীয়ত, বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য প্রধান মুদ্রার তুলনায় মার্কিন ডলার নিজেই অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, যার চাপে পড়ে ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মুদ্রার মান কমছে।
সবশেষে রয়েছে একটি মানসিক ভয় বা মনস্তাত্ত্বিক চাপ; ১ ডলারের দাম ৯০ টাকার ঘর পার হওয়ার পর থেকেই বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে যে এটি খুব দ্রুত ১০০ টাকায় গিয়ে ঠেকবে। এই আতঙ্কেও বাজারে টাকার মান আরও পড়ে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
উল্লেখ্য, মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার দাম বুধবার প্রায় ৯২ টাকার ধারে ছিলো, যা বৃহস্পতিবার হয় ৯২ টাকায়।
ডলারের দাম বাড়ায় ফলে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া করে তুলবে। এছাড়া বিদেশ ভ্রমণ ও পড়াশোনার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ওপর বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে পারে।


