Census 2027: ১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে জনগণনা: বদলে যাচ্ছে পুরোনো সব নিয়ম, কী থাকছে এবারের জনগণনায়?

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
5 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

খাতা-কলমের দিন শেষ, এবারের জনগণনা হতে চলেছে আদ্যোপান্ত হাই-টেক।  দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১ এপ্রিল থেকেই দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে জনগণনা ২০২৭।  সোমবার নয়াদিল্লিতে এক বর্ণাঢ্য সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সেন্সাস কমিশনার মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণ জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর এটিই হতে চলেছে দেশের অষ্টম জনগণনা, যা সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে।  ১১,৭১৮.২৪ কোটি টাকার এই বিশাল কর্মযজ্ঞে এবার বদলে যাচ্ছে গণনার একগুচ্ছ পুরোনো নিয়ম।  আগামী ১ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, গোয়া, কর্ণাটক, মিজোরাম, ওড়িশা ও সিকিমের মতো রাজ্যগুলিতে অনলাইনের মাধ্যমে ‘স্ব-গণনা’ বা সেলফ-ইনিউমারেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই ঐতিহাসিক অভিযানের সূচনা হতে চলেছে।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

তবে এবারের জনগণনার সবচেয়ে বড় বদল হলো এর মাধ্যম।  সেন্সাস কর্মীরা আর ফাইল ও ফর্মের বোঝা নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাবেন না।  তার বদলে ৩১ লক্ষেরও বেশি সেনসাস কর্মী ও সুপারভাইজার নিজেদের স্মার্টফোনে থাকা একটি বিশেষ ‘মোাবাইল অ্যাপ’-এর মাধ্যমে সরাসরি তথ্য নথিভুক্ত করবেন।  এবং এই গণনার তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় থাকছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

পুরোনো নিয়মে সেন্সাস কর্মীরা বাড়িতে এসে প্রশ্ন করলেই তথ্য দেওয়া যেত।  এবার নাগরিকদের জন্য থাকছে ‘সেলফ-ইনিউমারেশন’ বা স্ব-গণনার অভাবনীয় সুযোগ।  সাধারণ মানুষ চাইলে গণনাকারী আসার আগেই se.census.gov.in এই পোর্টালে গিয়ে নিজের ও পরিবারের তথ্য জমা দিতে পারবেন।  বাংলাসহ ১৬টি ভাষায় এই পোর্টাল কাজ করবে।  অনলাইনে তথ্য দেওয়ার পর একটি ১১ ডিজিটের ইউনিক আইডি (SE ID) মিলবে। পরবর্তীতে যখন সেনসাস কর্মীরা বাড়িতে আসবেন, তখন তাঁকে কেবল ওই আইডি-টি দেখালেই কাজ শেষ।  এর ফলে দীর্ঘক্ষণ দরজায় দাঁড়িয়ে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ঝক্কি আর পোয়াতে হবে না।

তবে এখানেই শেষ নয় এই অনলাইনে তথ্য দিলেই যে তা সরাসরি চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে তা নয়।  কমিশনার জানিয়েছেন, তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে কর্মীরা সশরীরে বাড়িতে গিয়ে ওই আইডি-র মাধ্যমে ফর্মটি খুলে পুনরায় মিলিয়ে দেখবেন।  সব কিছু ঠিক থাকলে তবেই তা চূড়ান্তভাবে সার্ভারে আপলোড করা হবে।

এবারের জনগণনার প্রক্রিয়াটি দুভাবে।  প্রথম পর্যায়ে ২০২৬-এর এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হবে বাড়ি ও আবাসন সংক্রান্ত তালিকাভুক্তি বা ‘গৃহগণনা’ (HLO)।  এই পর্বে জীবনযাত্রার মান ও সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত ৩৩টি প্রশ্ন করা হবে।  কি কি প্রশ্ন করবে ইতমধ্যে তা প্রকাশ‌ও করেছে এর মধ্যে রয়েছে – 

  • আপনার বাড়ির ছাদ বা মেঝে কী দিয়ে তৈরি?
  • বাড়িতে পানীয় জল ও শৌচাগারের সুবিধা কেমন?
  • রান্নার জন্য কী ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করেন?
  • আপনার বাড়িতে টেলিভিশন, ল্যাপটপ, গাড়ি বা ইন্টারনেট সংযোগ আছে কি না।

আর অপরদিকে, দ্বিতীয় পর্যায়ে অর্থাৎ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হবে মূল জনসংখ্যা গণনা (Population Enumeration)।  সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই দ্বিতীয় পর্যায়ের সময়েই দেশজুড়ে বহুল আলোচিত ‘জাতিভিত্তিক গণনা’ বা কাস্ট সেন্সাস করা হবে।

বাংলায় কবে শুরু জনগণনা?

১ এপ্রিল থেকে গোয়া, কর্ণাটক, ওড়িশা ও সিকিমের মতো রাজ্যে কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে তবে পশ্চিমবঙ্গের জন্য দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।  বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলার জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচী পরে ঘোষণা করা হবে।

 

State/UT Self-Enumeration Period Houselisting & Housing Census Period
Andaman & Nicobar, Goa, Karnataka, Odisha 1 April – 15 April 16 April – 15 May
Gujarat, Dadra & Nagar Haveli 5 April – 19 April 20 April – 19 May
Uttarakhand 10 April – 24 April 25 April – 24 May
Madhya Pradesh, Andhra Pradesh 16 April – 30 April 1 May – 30 May
Bihar 17 April – 1 May 2 May – 31 May
Telangana 26 April – 10 May 11 May – 9 June
Punjab 30 April – 14 May 15 May – 13 June
Maharashtra, Rajasthan 1 May – 15 May 16 May – 14 June
Uttar Pradesh 7 May – 21 May 22 May – 20 June
Jammu & Kashmir, Ladakh 17 May – 31 May 1 June – 30 June
Kerala, Nagaland 16 June – 30 June 1 July – 30 July
Assam 2 Aug – 16 Aug 17 Aug – 15 Sep
West Bengal To be decided

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।