আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের ভোটার তালিকা নিয়ে টানাপোড়েন এখন তুঙ্গে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) এর পর যাচাই হওয়া প্রায় ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন থাকা ভোটারের আবেদনের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, তালিকা থেকে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ভাগ্য এখন ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালের হাতে থাকলেও, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল নাম ফেরানোর জন্য ট্রাইব্যুনালকে কোনো ‘ডেডলাইন’ বা সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে না। ফলে, যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াই যে আরও দীর্ঘ হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
এদিন সুপ্রিম কোর্টে এই বিশাল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আইনজীবী শ্যাম দিভান এবং রাজ্যের পক্ষে কপিল সিব্বল সওয়াল করেন যে, যাদের প্রাথমিক প্রমাণ সঠিক আছে, তাদের জন্য ট্রাইব্যুনাল যেন অন্তত অন্তর্বর্তীকালীন কোনো নির্দেশ দেয়। কিন্তু প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ সেই দাবি খারিজ করে দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সামনেই নির্বাচন, তাই এখন ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ করা জরুরি। জোর করে তাড়াহুড়ো করলে ন্যায়বিচার ব্যাহত হতে পারে।
শুধু সময়সীমা নয়, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল যাতে একই নিয়ম মেনে দ্রুত কাজ করতে পারে, তার জন্য সুপ্রিম কোর্ট একটি বিশেষ গাইডলাইন দিয়েছে। প্রধান বিচারপতির নির্দেশ অনুযায়ী, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে তিনজন প্রাক্তন সিনিয়র প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটিই ঠিক করে দেবে ১৯টি ট্রাইব্যুনাল কোন পদ্ধতিতে তথ্য যাচাই করবে, যা প্রতিটি ট্রাইব্যুনালের জন্য মানা বাধ্যতামূলক। আদালত স্পষ্ট করেছে, ট্রাইব্যুনাল চাইলে বিচারকদের দেওয়া কারণসহ সব নথি নতুন করে খতিয়ে দেখতে পারবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, অফলাইনে আপিল জমা দিলে জেলাশাসকের দপ্তর থেকে অবশ্যই প্রাপ্তি স্বীকার বা রসিদ (Receipt) দিতে হবে।
এদিন শুনানির এক পর্যায়ে মালদায় ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজে গিয়ে সাতজন বিচারকের হেনস্থার মুখে পড়ার ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট।
