রাজ্যের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার নবান্নে আয়োজিত একটি সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগামী জুলাই মাস থেকেই রাজ্যের মানুষ হাতে পেতে চলেছেন কেন্দ্রীয় সরকারের জনপ্রিয় স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত‘ এর কার্ড।
মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তকে পাশে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের জন্য নাম নথিভুক্তকরণের কাজ ইতিমধ্যেই পুরোদমে শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই কার্ড প্রথম দফায় কারা পাবেন এবং কাদের ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগবে? নবান্ন থেকে সেই সমস্ত বিষয়ের খুঁটিনাটি খতিয়ান তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রথম দফায় কারা পাবেন এই কার্ড?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন জানান, সাধারণ মানুষকে যাতে লাইনে দাঁড়িয়ে নতুন করে ভোগান্তি পোহাতে না হয়, তার জন্য একটি বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে রাজ্যের প্রায় ৬ কোটিরও বেশি মানুষ ‘স্বাস্থ্যসাথী‘ কার্ডের সুবিধা পাচ্ছেন। প্রথম দফায় এই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড হোল্ডারদের সরাসরি এবং অবিলম্বে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হবে। ফলে যাঁদের কাছে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড রয়েছে, তাঁরাই জুলাই মাস থেকে এই আয়ুষ্মান কার্ড হাতে পাবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে।
যাঁদের কাছে এই মুহূর্তে কোনো স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নেই, অর্থাৎ যাঁরা সম্পূর্ণ নতুনভাবে এই স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা নিতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি শুরু হতে সামান্য সময় লাগতে পারে। তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই, তাঁদের জন্যও বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, নতুনদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আগামী জুন মাসের প্রথম সপ্তাহেই দিল্লির সঙ্গে একটি বড় চুক্তি সই করতে চলেছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্র ও রাজ্য স্তরের মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ‘আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির‘ সংক্রান্ত এই চুক্তিটি সম্পন্ন হবে। এর পরেই নতুন আবেদনকারীদের কার্ড দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে যাবে।
এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর পরিধি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই কার্ডের সুবিধা শুধু পশ্চিমবঙ্গে থাকা স্থায়ী বাসিন্দারাই পাবেন না, বরং বাংলার যে সমস্ত মানুষ বা পরিযায়ী শ্রমিকরা কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে থাকেন কিংবা যে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য রাজ্যের বাইরে রয়েছেন, তাঁরাও দেশের যেকোনো প্রান্তে বসে এই কার্ডের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্নতমানের চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন।
জানা গিয়েছে, ন্যাশনাল হেলথ মিশন’ এর অধীনে ভারত সরকার বাংলার জন্য ২,১০৩ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে ৫০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই রাজ্যের তহবিলে চলে এসেছে।

