দুই হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরে আছেন পুরোনো কাপড়ে জড়ানো একটি পচাগলা কঙ্কাল। সেই অবস্থাতেই গটগট করে ঢুকে পড়লেন ব্যাংকের ভেতর। কাউন্টারের সামনে কঙ্কালটি রেখে আর্তনাদ করে উঠলেন ব্যক্তিটি “আপনারা আমার বোনকে দেখতে চেয়েছিলেন না? এই দেখুন আমার বোন, এবার ওর জমানো টাকাটা দিন!“
এমনই অভাবনীয় এবং মর্মান্তিক দৃশ্যের সাক্ষী হলো ওড়িশার কেঁওঝড় জেলা। বোনের জমানো মাত্র ১৯ হাজার ৩০০ টাকা ব্যাংক থেকে তুলতে না পেরে, শেষ পর্যন্ত কবর থেকে তাঁর দেহাবশেষ তুলে সরাসরি ব্যাংক শাখায় হাজির হলেন এক অসহায় ভাই। ওড়িশা গ্রামীণ ব্যাংকের মাল্লিপাসি শাখায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি বর্তমানে প্রশাসনিক তৎপরতা এবং মানবিকতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
৫৩ বছর বয়সী জিতু মুণ্ডার বড় বোন কাকরা মুণ্ডা গত জানুয়ারি মাসে মারা যান। নিঃসন্তান কাকরা দেবী নিজের গবাদি পশু বিক্রি করে তিল তিল করে ব্যাংকে জমান ১৯,৩০০ টাকা। তাঁর মৃত্যুর পর সেই টাকার একমাত্র উত্তরাধিকারী ছিলেন ভাই জিতু। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার খরচ এবং ঋণের বোঝা মেটাতে ওই টাকার জন্য গত কয়েক মাস ধরে ব্যাংকের দরজায় দরজায় ঘুরেছেন তিনি।
জিতুর দাবি, বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ডেথ সার্টিফিকেট ও আইনি উত্তরাধিকার শংসাপত্রের দাবিতে অনড় ছিল। এমনকি তিনি যখন জানান যে বোন মারা গিয়েছেন, তখন ব্যাংক থেকে বলা হয় গ্রাহককে সশরীরে উপস্থিত করতে। দারিদ্র্য আর অশিক্ষার কারণে নথিপত্র জোগাড় করতে ব্যর্থ হয়ে শেষে ক্ষোভ আর অভিমানে গত সোমবার বোনের কবর খুঁড়ে কঙ্কাল বের করেন জিতু। প্রায় ৩ কিলোমিটার পথ সেই পচাগলা দেহ বহন করে তিনি ব্যাংকে হাজির হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জিতুকে শান্ত করে এবং কঙ্কালটি পুনরায় সমাধিস্থ করার ব্যবস্থা করে। ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে পেরে স্থানীয় প্রশাসন এখন বিশেষ ব্যবস্থায় জিতুকে তাঁর পাওনা টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

