সোমবারই কি তৃণমূলের তাসের ঘর ভাঙবে? ১৯ সাংসদ নিয়ে এনডিএ-র পথে কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া!

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
2 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ এবার দিল্লিতে এসে আছড়ে পড়ল।  দলের অন্দর মহলের লড়াই আর গোপন রইল না। কার্যত প্রকাশ্য বিদ্রোহ ঘোষণা করে কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া জানিয়ে দিলেন, তৃণমূলের মোট ১৯ জন লোকসভা সাংসদ এখন তাঁর গোষ্ঠীর সঙ্গে রয়েছেন।  শুধু তাই নয়, তাঁরা জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট বা এনডিএ র সঙ্গে জোট বাঁধার চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

বিদ্রোহী সাংসদদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রবিবারই দিল্লিতে পৌঁছাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।  এদিন সন্ধ্যায় বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে।  এরপর সোমবার, ১৫ জুন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে তাঁরা নিজেদের ‘প্রকৃত তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানাবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহীদের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত পরিকল্পিত। দলত্যাগ বিরোধী আইনের (Anti-Defection Law) জটিলতা এড়াতেই তাদের এই কৌশলী চাল বলে মনে করছে অনেকেই।  লোকসভায় তৃণমূলের বর্তমান আসন সংখ্যা ২৮।  সংবিধানের দশম তফশিল অনুযায়ী, কোনো দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে গেলে মোট সাংসদ সংখ্যার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থনের প্রয়োজন পরে।  সেই হিসেবে ১৯ জনের সমর্থন নিশ্চিত করে বিদ্রোহীরা আইনত সুরক্ষাকবচ পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

এই পুরো বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্বে রয়েছেন বর্ষীয়ান নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার। জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া জানিয়েছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের আচরণের বিরুদ্ধেই এই বিদ্রোহ। প্রবীণ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বিতর্কিত মন্তব্য নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি।  জগদীশবাবুর কথায়, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলেছেন, তা সঠিক।  আমরা তাঁর সেই বক্তব্যকে সমর্থন করি।” সূত্রের খবর, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এই বিদ্রোহী শিবিরে দেখা যেতে পারে।

এই ১৯ জনের তালিকায় কারা রয়েছেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।  সূত্রের খবর, তালিকায় রয়েছেন উত্তরবঙ্গ থেকে জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া এবং দক্ষিণবঙ্গ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মালা রায়, পার্থ ভৌমিক, বাপি হালদার, মিতালি বাগ, দীপক অধিকারী (দেব), শতাব্দী রায়, রচনা ব্যানার্জি, ডাঃ শর্মিলা সরকার ও অসিত কুমার মাল।  এছাড়া তৃণমূলের অন্দরের হিসেব অনুযায়ী সায়নী ঘোষ ও শত্রুঘ্ন সিনহার নাম নিয়েও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

এই বিদ্রোহ যদি শেষ পর্যন্ত সফল হয়, তবে সংসদের অন্দরে তৃণমূলের শক্তি কার্যত তলানিতে গিয়ে ঠেকবে। অন্যদিকে, এনডিএ শিবিরে এই সাংসদদের অন্তর্ভুক্তি কেন্দ্রের শাসক জোটের সংখ্যাতত্ত্ব ও রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবেও বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।