বাংলার মসনদে এবার কে বসছেন? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। গত ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে যে বিধানসভা ভোট হয়েছিল, আগামীকাল অর্থাৎ সোমবার ৪ মে তার চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হতে চলেছে। এই বিশাল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজ্যের ছয় কোটিরও বেশি মানুষ তাঁদের পছন্দের প্রার্থীদের জন্য ভোট দিয়েছেন। তবে এবার কয়েক লক্ষ মানুষ ভোট দিতে পারেননি। জানা গেছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার জটিলতায় পড়ে রাজ্যের কয়েক লক্ষ ভোটার এবার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যথেষ্ট ক্ষোভ রয়েছে।
তবে আগামীকাল গোটা রাজ্যের ফলাফল সামনে এলেও, একটি আসনের ফলাফল আসবে না। সেটি হচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ‘ফালতা’ বিধানসভা কেন্দ্র। এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণে বেশ কিছু অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠায় কমিশন সেখানে কাল ফল প্রকাশ করছে না। কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ওই একটি আসনে আগামী ২১ মে পুনরায় ভোট নেওয়া হবে। ফলে আগামীকাল ২৯৪টির বদলে ২৯৩টি আসনের জয়-পরাজয়ের ছবি পরিষ্কার হবে।
কালকের ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রকে ঘিরে রাখা হচ্ছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে (Three-tier security)। কেন্দ্রের একদম ভেতরে থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, মাঝের স্তরে থাকবে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশ এবং বাইরের নিরাপত্তায় থাকবে জেলা পুলিশ। এ ছাড়া গণনাকেন্দ্র ও স্ট্রং রুমের প্রতিটি কোণ সিসিটিভি ক্যামেরায় ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হচ্ছে। গণনাকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে, যাতে ভিড় বা জমায়েত না হতে পারে। এমনকি গণনাকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন বা কোনো ইলেকট্রনিক গ্যাজেট নিয়ে প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোট গণনার সময় এবং ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী পরিস্থিতিতে শান্তি বজায় রাখতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য যে, এবারের বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে কখনও বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে, আবার কখনও তৃণমূলকে। কিন্তু মানুষের মনে কৌতূহল একটাই, এবার কোন দল রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করবে?
