রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের রেজাল্ট নিয়ে এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টে বড় দাবি তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং নতুন করে নাম তোলার আবেদনগুলো আটকে রাখার ফলে নির্বাচনের ফলে বড় প্রভাব পড়েছে। সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মেনকা গুরুস্বামী একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাজ্যে প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষের ভোটার তালিকায় নাম তোলা সংক্রান্ত আবেদন বা আপিল বর্তমানে ট্রাইব্যুনালগুলোতে ঝুলে রয়েছে। সবথেকে উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্তমানে যে গতিতে এই আপিলগুলোর শুনানি বা নিষ্পত্তি চলছে, তাতে এই ৩৫ লক্ষ মানুষের আবেদনের ফয়সালা হতে অন্তত ৪ বছর সময় লেগে যাবে। অর্থাৎ, একজন সাধারণ নাগরিকের ভোটার হওয়ার অধিকার ফিরে পেতে কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে, যা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়।
এ ছাড়াও এদিন তৃণমূলের আইনজীবীরা আদালতকে আরও জানান যে, রাজ্যের অন্তত ৩১টি বিধানসভা আসনে বিজেপি প্রার্থীরা যে ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন, সেই আসনগুলোতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া বা ঝুলে থাকা আবেদনের সংখ্যা অনেক বেশি। সহজ করে বললে, কোনো আসনে হয়তো তৃণমূল প্রার্থী কয়েকশ ভোটে হেরেছেন, কিন্তু সেই একই আসনে কয়েক হাজার মানুষের ভোটার হওয়ার আবেদন ট্রাইব্যুনালে পড়ে ছিল। তৃণমূলের দাবি, যদি এই ৩৫ লক্ষ মানুষ সময়মতো ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগ পেতেন এবং ভোট দিতে পারতেন, তবে ওই ৩১টি আসনের ফলাফল তৃণমূলের পক্ষেই যেত। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের অধিকার আটকে রেখে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে বলে তৃণমূল মনে করছে।
এই সমস্ত যুক্তি শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। আদালত জানতে চেয়েছে, কেন এত বিপুল পরিমাণ আবেদন ট্রাইব্যুনালগুলোতে থমকে আছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের এই হয়রানি এবং আইনি প্রক্রিয়ার ধীর গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদালত এখন এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট খতিয়ে দেখবে। তৃণমূলের দাবি যদি সঠিক প্রমাণিত হয় এবং এই ৩৫ লক্ষ মানুষের আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি হয়, তবে আগামী দিনে ওই ৩১টি আসনের জয়-পরাজয় নিয়ে বড় কোনো আইনি পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে হচ্ছে।
