এসআইআর (Special Intensive Revision – SIR) এর গঠিত বিশেষ আপিল ট্রাইব্যুনাল থেকে পদত্যাগ করলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি.এস. শিবজ্ঞানম। গত বৃহস্পতিবার তিনি বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এবং পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে তাঁর ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রায় ২৭ লক্ষ নাগরিকের নথি যাচাইয়ের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়োর (SOP) তৈরির প্রয়োজন ছিল। কলকাতা হাইকোর্ট এই কাজের জন্য তিন বিচারপতির একটি কমিটি গঠন করেছিল, যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন বিচারপতি শিবজ্ঞানম। তাঁর নির্দেশনায় ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যেই নথি যাচাইয়ের পর দুটি তালিকা প্রকাশ করেছে। তবে যাচাইয়ের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ এখনও শেষ হয়নি, যার মাঝপথেই তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলেন।
রাজ্যজুড়ে মোট ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, যার প্রতিটির নেতৃত্বে রয়েছেন একজন প্রাক্তন বিচারপতি বা প্রধান বিচারপতি। একটি ট্রাইব্যুনালের প্রধান হিসেবে বিচারপতি শিবজ্ঞানম গত ৫ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত নিরলস কাজ করেছেন। এই স্বল্প সময়ে তিনি রেকর্ড ১৭৭৭ জন ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন। তবে তিনি নিজেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, বর্তমানে যে গতিতে কাজ এগোচ্ছে, তাতে শুধু কলকাতার আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করতেই কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। এছাড়া ই-কোর্ট পোর্টালে শব্দসংখ্যার সীমাবদ্ধতার কারণে বিস্তারিত রায় লিখতে না পারা এবং ভিন জেলার মামলার বাড়তি চাপের বিষয়গুলোও তাঁর পদত্যাগের নেপথ্য কারণ হিসেবে উঠে আসছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিচারপতি শিবজ্ঞানমের ইস্তফার পর ওই শূন্যপদে অন্য কোনো অবসরপ্রাপ্ত বিচারককে দ্রুত নিয়োগ করা হবে। কারণ, বাদ পড়া লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে রয়েছে এবং এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। গত কয়েকদিনে নতুন করে কতজনের নামের নিষ্পত্তি হয়েছে, সেই সঠিক সংখ্যা এখনও সামনে আসেনি।
