ঠিক এক বছর আগের সেই রক্তঝরা ভোর। সীমান্ত পেরিয়ে আসা লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন টিআরএফ-এর যে কাপুরুষোচিত হামলায় পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকা রক্তাক্ত হয়েছিল, আজ তার ক্ষতে বীরত্বের প্রলেপ মাখানোর দিন। পহেলগাঁও হামলায় নিহত ২৬ জন নিরস্ত্র পর্যটকের মৃত্যুর বদলা নিতে ভারত যে রণকৌশল নিয়েছিল, সেই ‘অপারেশন সিঁদুর‘ এর আজ প্রথম বর্ষপূর্তি। এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের ছবি (DP) বদলে ফেলেছেন। জাতীয় সংহতি ও বীরত্বের প্রতীক হিসেবে অপারেশন সিঁদুরের লোগো আজ দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের ডিজিটাল পরিচয়।
সেনাবাহিনীর তরফে দেওয়া বার্তায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে ভারতের মাটিতে সন্ত্রাসবাদের কোনও ঠাঁই নেই। বর্ষপূর্তির সকালে ভারতীয় সেনার অফিশিয়াল হ্যান্ডেল থেকে প্রকাশিত ভিডিওর মূল সুর ছিল একটাই, ‘সন্ত্রাসবাদীদের রেহাই নেই’। গত বছর ৭ মে মাঝরাতে আকাশ ও স্থলপথে অতর্কিতে যে প্রত্যাঘাত হেনেছিল ভারতীয় সেনা, তাতে গুঁড়িয়ে গিয়েছিল পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি প্রধান জঙ্গিঘাঁটি। আজকের দিনটি আসলে সেই প্রত্যয়ী ভারতেরই জয়গান, যারা আঘাত সয়ে চুপ করে বসে থাকে না, বরং শত্রুর ডেরায় ঢুকে মোক্ষম জবাব দিতে জানে।
পহেলগাঁওয়ের সেই মর্মান্তিক স্মৃতি আজও ভারতবাসীর মনে টাটকা। ২২ এপ্রিলের সেই হামলায় পর্যটকদের রক্তে ভেসেছিল পাহাড়। কিন্তু সেই শোককে শক্তিতে পরিণত করতে দেরি করেনি নয়াদিল্লি তাঁর ১৫ দিনের মধ্যে। গত বছরের ৭ মে ভোররাতে শুরু হওয়া অপারেশন সিঁদুর ছিল ভারতীয় সামরিক ইতিহাসে এক অন্যতম নিখুঁত এবং বিধ্বংসী পালটা চাল। প্রতিরক্ষামন্ত্রকের মতে, এই অভিযান শুধুমাত্র কয়েকটা জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করা ছিল না, বরং সীমান্ত ওপারে থাকা মদতদাতাদের উদ্দেশে এক কড়া হুঁশিয়ারি ছিল।
এ দিন বর্ষপূর্তির আবহে নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট এক্স এ প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রোফাইল ছবি বদল এবং দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন একথা।

