দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর, আগামী ৯ মে রাজ্যে নতুন সরকার শপথ নিতে পারে বলে জানা গেছে। বিশেষ বিষয় হলো, ওই দিনটি বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম আবেগের দিন পঁচিশে বৈশাখ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশেষ দিনটিকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে নতুন শাসকদল বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনার সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরির একটি কৌশলী বার্তা দিতে চাইছে।
প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী, আগামী ৬ মে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক রাজ্যপালের কাছে নবনির্বাচিত বিধায়কদের তালিকা সংবলিত একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি জমা দিতে পারেন। এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই নতুন সরকার গঠনের সাংবিধানিক পথটি আইনিভাবে বৈধতা পাবে। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুব শীঘ্রই রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পদত্যাগ করবেন। তবে নতুন মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত রাজ্যপাল তাঁকে ‘তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রী‘ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে বলতে পারেন, যাতে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতায় কোনও বিঘ্ন না ঘটে।
এদিকে, জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে এখন সবথেকে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে কে হতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আজই কলকাতায় আসছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ বিকেলের মধ্যেই কলকাতায় পৌঁছাতে পারেন। রাজনাথ সিং মূলত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে আয়োজিত পরিষদীয় দলের বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক মহলে বেশ কিছু নাম নিয়ে জোর চর্চা চলছে। তালিকায় প্রথম সারিতে রয়েছেন বিধানসভার বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, যিনি ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে নিজের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও প্রমাণ করেছেন। এছাড়াও প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, বর্তমান রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং বর্ষীয়ান নেতা শমীক ভট্টাচার্যের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। তবে দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত কাকে বাংলার দায়িত্ব দেবেন, তা জানা যাবে ৯ মে-র পরিষদীয় দলের বৈঠকের পরেই। তবে আজ রাতের মধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতারা রাজ্য শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করতে পারেন বলে বিশেষ সূত্রে খবর।
