জল্পনার অবসান, শেষ পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের কলঙ্কেই বাতিল হয়ে গেল ২০২৬ সালের নিট (NEET-UG) পরীক্ষা! গত ৩ মে যে মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তার স্বচ্ছতা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হওয়ায় বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। ভারত সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) আজ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ৩ মে-র পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা ফেরাতে এবং মেধার মর্যাদা রক্ষায় এবার সরাসরি আসরে নামছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)।
গোটা দেশে প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া এই অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে, দুর্নীতির শিকড় খুঁজতে কোনো আপস করা হবে না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রাথমিক তদন্তে এমন কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যার পর ওই পরীক্ষা বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। সিবিআই এখন খতিয়ে দেখবে এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের নেপথ্যে কোন বড় চক্র কাজ করছে। এনটিএ-র পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তদন্তকারী সংস্থাকে সবরকম নথি ও তথ্য দিয়ে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে।
পরীক্ষার্থীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর হলো, পুনরায় পরীক্ষার জন্য নতুন করে কোনো আবেদন বা রেজিস্ট্রেশন করতে হবে না। এমনকি নতুন করে কোনো ফি-ও জমা দিতে হবে না। মে ২০২৬-এর জন্য যারা আবেদন করেছিলেন, তাদের তথ্য অনুযায়ীই আবার অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু করা হবে। এছাড়াও এনটিএ জানিয়েছে, আগে জমা দেওয়া পরীক্ষার ফি শিক্ষার্থীদের ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে এবং এনটিএ-এর নিজস্ব তহবিল থেকেই পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার খরচ বহন করা হবে।
প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জড়িয়ে রয়েছে এই পরীক্ষার সঙ্গে। এত বড় মাপের একটি পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল। এনটিএ এবং সরকার উভয় পক্ষই জানিয়েছে, তারা শিক্ষার্থীদের প্রতি সংবেদনশীল এবং কোনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করা হবে না। নতুন অ্যাডমিট কার্ড এবং পরীক্ষার তারিখ শীঘ্রই জানিয়ে দিবে বলে জানিয়েছে এনটিএ।
