রাজ্যে শাসক দলের পরিবর্তনের পর কাস্ট সার্টিফিকেট নিয়ে বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে নতুন বিজেপি সরকার।
সূত্রে খবর, ২০১১ সালের পর থেকে রাজ্যে যত জাতিগত শংসাপত্র (SC, ST এবং OBC) ইস্যু করা হয়েছে, সেগুলি এখন নতুন করে যাচাই বাছাই করতে চলেছে। রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দপ্তর থেকে ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেওয়া সমস্ত সার্টিফিকেটের বৈধতা পুনরায় যাচাই বা ‘রি-ভেরিফিকেশন’ করা হয়।
মূলত সরকারি নথিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ২০১১ সালের পর থেকে রাজ্যে মোট প্রায় ১ কোটি ৬৯ লক্ষ কাস্ট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পের মাধ্যমে বিলি করা প্রায় ৪৮ লক্ষ সার্টিফিকেটও রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অনেক ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম না মেনেই এই সার্টিফিকেটগুলি বিলি করা হয়েছে। এখন থেকে প্রত্যেক আবেদনকারীর জমা দেওয়া নথিপত্র, পারিবারিক ইতিহাস এবং তথ্যের সত্যতা আরও একবার খতিয়ে দেখা হবে। যদি তদন্তে কোনো ত্রুটি বা জালিয়াতি ধরা পড়ে, তবে আইন অনুযায়ী সেই সার্টিফিকেট সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করে দেওয়া হবে।
বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে রাজ্যের সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ার ওপর। এই প্রক্রিয়ায় রাজ্যজুড়ে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছ। এরপর তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছে তাদের ক্ষেত্রে সরকার নির্দেশ দিয়েছে তাদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের কাস্ট সার্টিফিকেটগুলি বাধ্যতামূলকভাবে পুনরায় তদন্ত করা হবে। যদি দেখা যায় কেউ রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা নন বা অন্য কোনো কারণে ভোটার হওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন, তবে তাদের জাতিগত শংসাপত্রও (SC, ST এবং OBC) আর বৈধ থাকবে না।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে কলকাতা হাইকোর্ট ২০১১ সালের পর ইস্যু করা বিপুল সংখ্যক ওবিসি (OBC) সার্টিফিকেট বাতিলের একটি ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিল। বিষয়টি বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। তা সত্ত্বেও প্রশাসনিক স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং কোনোপ্রকার অনিয়ম রুখতে নবান্ন এই পুনর্যাচাইয়ের পথে হাঁটছে। এর ফলে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ না থাকলেও, যারা ভুল তথ্য দিয়ে বা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে শংসাপত্র তৈরি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

