সম্প্রতি মুসলিম সম্প্রদায়ের পবিত্র উৎসব ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল, বিশেষ করে তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলকে কেন্দ্র করে এক নতুন রাজনৈতিক গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। ইদের দিন তাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রচলিত ধারার কোনো শুভেচ্ছা বার্তাই দেখা যায়নি। শুধু মুখ্যমন্ত্রী একা নন, তাঁর মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যই এবার ইদ উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যমে কোনো ধরনের বার্তা পোস্ট করেননি।
নতুন নবান্নের এই সম্মিলিত নীরবতা নিয়েই এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। তবে ফেসবুকের দেওয়ালে এই দূরত্ব বজায় রাখলেও, বিতর্ক এড়াতে মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য নিজের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে ইংরেজিতে একটি সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “যারা ইদ-উল-আজহা উদযাপন করছেন, তাদের সকলকে শুভেচ্ছা। আপনাদের ও আপনাদের পরিবারের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।” এক্স-এ এই বার্তা মিললেও, ফেসবুকের মতো বড় গণমাধ্যমে খোদ মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর গোটা মন্ত্রিসভার এই মৌনতা আসলে কোনো সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল, নাকি বাংলায় দীর্ঘদিনের চেনা রাজনৈতিক ঘরানা বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে জোরকদমে চর্চা।
ঈদের দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নদিয়ার মায়াপুরে বিখ্যাত ইসকন মন্দিরে যান এবং সেখানে গো-পূজা ও গো-সেবায় অংশগ্রহণ করেন। নিজের হাতে গোমাতাদের খাওয়ানো এবং আরতিতে যোগ দেওয়ার ছবি নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট ফেসবুকে পোস্ট করেন। বিগত সরকারের আমলে ঈদের দিনে যেভাবে ধর্মীয় উৎসবের শুভেচ্ছা ও বিশেষ বার্তা দেওয়া হতো, এবার সেই ছবি সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। বরং গো-পূজার মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী যে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অবস্থান নিয়েছেন, তা রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া তীব্র ও মিশ্র। বিজেপি সমর্থকদের একাংশ এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, এটি বাংলায় দীর্ঘদিনের ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’র অবসান এবং সনাতন সংস্কৃতির প্রতি স্বাভাবিক সম্মান প্রদর্শন। তাঁদের মতে, একজন মুখ্যমন্ত্রী নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয় লুকিয়ে রাখবেন না এটাই স্বাভাবিক।
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের সমর্থক ও নেটিজেনদের একাংশ এই ঘটনাকে বাংলার মিশ্র সংস্কৃতি ও সহাবস্থানের ঐতিহ্যের পরিপন্থী বলে সমালোচনা করেছেন। তাঁরা মনে করেন, রাজ্যের অভিভাবক হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের সব ধর্মের উৎসবে সমান শুভেচ্ছা জানানো উচিত ছিল।
নবনিযুক্ত সরকার ইতিমধ্যে ঈদের ছুটি পুনর্বিন্যাস, গরু বলি নিয়ন্ত্রণ এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতি নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী ও পুরো মন্ত্রিসভার ঈদে সোশ্যাল মিডিয়ায় নীরবতা নতুন সরকারের আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

