উত্তরবঙ্গে হচ্ছে ‘AIIMS’,! বেসরকারি হাসপাতালের ১৫% বেড গরিবদের জন্য ফ্রি: বড় ঘোষণা সরকারের

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
3 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

এক দশকের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে উত্তরবঙ্গে তৈরি হতে চলেছে বিশ্বমানের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ‘এমস’ (AIIMS)। যা উত্তরবঙ্গের জন্য নতুন, তবে এই এমস গড়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।  তিনি জানিয়েছেন, হাসপাতাল তৈরির জন্য ইতিমধ্যেই উপযুক্ত জমি খোঁজার কাজ শুরু করেছে সরকার।  নবান্নের লক্ষ্য, দ্রুত জমি চিহ্নিত করে সেই সংক্রান্ত সবিস্তার রিপোর্ট ভারত সরকারের কাছে পাঠানো। কেন্দ্রের সবুজ সংকেত মিললেই দ্রুত পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

এর পাশাপাশি, সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে বেসরকারি হাসপাতালগুলির ওপর কড়া রাশ টেনেছেন মুখ্যমন্ত্রী।  স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যে সমস্ত বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোম সরকারের কাছ থেকে মাত্র ১ টাকায় বা বিশেষ সুবিধায় জমি নিয়েছে, তাদের মোট শয্যার (Beds) ১৫ শতাংশ গরিব ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষের চিকিৎসার জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সংরক্ষিত রাখতে হবে।

এদিকে উত্তরবঙ্গে এইমস গড়ার ঘোষণা হতেই, সেটি কোন জেলায় তৈরি হবে তা নিয়ে জোর রাজনৈতিক চর্চা ও জেলাগুলির মধ্যে দড়িটানাটানি শুরু হয়ে গেছে।  রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণমন্ত্রী তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক সাফ জানিয়েছেন, কোচবিহারের মাথাভাঙায় যাতে এই এইমস তৈরি করা যায়, সেব্যাপারে তিনি আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।  ঠিক একইভাবে জলপাইগুড়ির দোমোহনিতে রেলের জমিতে এইমস গড়ার জোরালো দাবি উঠেছে স্থানীয় স্তরে।


তবে এইমসের দাবিতে সবচেয়ে বড় বিতর্ক ও আন্দোলন দানা বেঁধেছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে।  ‘রায়গঞ্জ এইমস ডিম্যান্ড ফোরাম‘-এর তরফে স্পষ্ট হুঙ্কার দেওয়া হয়েছে, “রায়গঞ্জের এইমস রায়গঞ্জেই চাই।” এলাকার বাসিন্দাদের এই দীর্ঘদিনের দাবিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন রায়গঞ্জের বর্তমান বিধায়ক কৌশিক চৌধুরী ও প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত।  কৌশিক বাবু স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এবার রায়গঞ্জে এইমস না হলে এলাকার সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তিনি আমরণ অনশনে বসবেন।

উত্তরবঙ্গে এইমসের এই লড়াইয়ের ইতিহাস অবশ্য বেশ পুরনো।  প্রয়াত কংগ্রেস নেতা প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির হাত ধরেই প্রথম উত্তরবঙ্গে এইমসের দাবি জোরালো হয়েছিল।  তাঁরই মরিয়া চেষ্টায় ২০০৮ সালে তৎকালীন ইউপিএ সরকার উত্তরবঙ্গের জন্য এইমসের অনুমোদন দেয়।  রায়গঞ্জের পানিশালার শিবগ্রামে ৮২৩ কোটি টাকা খরচে এইমসের জন্য জমিও চিহ্নিত করা হয়েছিল।  কিন্তু তৎকালীন রাজ্য সরকারের অসহযোগিতা ও জমিজটের কারণে শেষমেশ রায়গঞ্জে সেই কাজ আটকে যায়।  পরবর্তীতে ২০১৫ সালে সেই এইমস স্থানান্তরিত হয়ে চলে যায় নদীয়ার কল্যাণীতে।   কল্যাণীতে এইমস চলে যাওয়ার পর থেকেই উত্তরবঙ্গবাসীর মনে তীব্র ক্ষোভ ও বঞ্চনার আগুন জ্বলছিল।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।