রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর এবার পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের পথে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার সকাল ১১টায় লোকভবনে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সামাজিক মাধ্যমে এই কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেছেন। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের জনগণের রায়ে নির্বাচিত নতুন রাষ্ট্রবাদী সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের লক্ষ্যে ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী পদ ও গোপনীয়তার শপথ নেবেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাজ্যপাল আর এন রবি (R. N. Ravi)।
সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী-সহ সর্বাধিক ৪৪ জন মন্ত্রী থাকতে পারেন। গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণের সময় তাঁর সঙ্গে আরও পাঁচ জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছিলেন। ফলে বর্তমানে মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা মাত্র ছয়। সোমবার আরও ৩৫ জন মন্ত্রী শপথ নিলে সেই সংখ্যা বেড়ে হবে ৪১। অর্থাৎ ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও তিন জনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ থাকবে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়ানো এবং বিভিন্ন দফতরে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব বণ্টনের লক্ষ্যেই এই বৃহৎ সম্প্রসারণ।
এদিকে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকা ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বিজেপির অন্দরের আলোচনা এবং রাজনৈতিক মহলের অনুমান অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের অন্যতম পরিচিত মুখ ও শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ( Shankar Ghosh) মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন। পাশাপশি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে চলেছেন তুফানগঞ্জ বিধানসভার বিধায়ক মালতী রাভা রায়।
এছাড়াও কুমারগ্রামের বিধায়ক মনোজ ওরাওঁ (Manoj Oraon), সিউরির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (Jagannath Chattopadhyay), বিধাননগরের বিধায়ক শরদিন্দু মুখোপাধ্যায় (Sharadindu Mukherjee), রাসবিহারীর বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta), ময়ূরেশ্বরের বিধায়ক দুধকুমার মণ্ডল (Dudhkumar Mondal), মানিকতলার বিধায়ক তাপস রায় (Tapas Roy) এবং নোয়াপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিং (Arjun Singh)-এর নামও সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে। এছাড়া বিজেপির আইনজীবী ও মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত কৌস্তভ বাগচী (Kaustav Bagchi) -এর নাম নিয়েও আলোচনা রয়েছে, যদিও দল বা সরকারের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চমক থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক মহল। কারণ, মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ভারসাম্য, জাতিগত প্রতিনিধিত্ব, সাংগঠনিক গুরুত্ব এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এই চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে বর্তমানে যে নামগুলি নিয়ে জল্পনা চলছে, তার বাইরে থেকেও একাধিক নতুন মুখ মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন।

