খুনের মামলায় অভিযুক্ত, অথচ দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন রাজগঞ্জের অপসারিত ও প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে নিয়ে হাইকোর্টের তোপের মুখে রাজ্য পুলিশ। স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মনকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পুলিশের তদন্তকারী অফিসারের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
ঘটনার সূত্রপাত, গত বছরের অক্টোবরে দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণের ঘটনা ঘটে। এরপর নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাটে তাঁকে নৃশংসভাবে মারধর করা হয়, যার জেরে মৃত্যু হয় ওই ব্যবসায়ীর। পরে ৩০ অক্টোবর যাত্রাগাছির খালপাড় থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পর থেকেই মৃতের পরিবার রাজগঞ্জের তৎকালীন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে খুনের মূল অভিযোগ তুলেছিল।
বুধবার বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের এজলাসে মামলার শুনানিতে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। আদালত প্রশ্ন তোলে, যে ব্যক্তি খুনের মামলার প্রধান অভিযুক্ত এবং হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট উভয় আদালতই যাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল, তিনি কীভাবে এতদিন বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন? আদালতে আরও তথ্য আসে যে, পলাতক থাকার সময়েও প্রশান্ত বর্মন প্রকাশ্যে ঘুরেছেন এবং সরকারি দপ্তরে গিয়ে নিজের নামে জমি রেজিস্ট্রিও করেছেন। অথচ পুলিশ তাঁকে ‘খুঁজে পাচ্ছে না’ বলে দাবি করেছে। এই বাস্তবতায় পুলিশের তদন্তের গাফিলতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি।
এবার তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেয় শুধুমাত্র অভিযুক্ত নয়, এই খুনের মামলার তদন্তকারী অফিসার শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, তদন্তকারী অফিসার কৌশলে চার্জশিটে অভিযুক্তের নাম রাখলেও তাকে ‘পলাতক’ দেখিয়ে মূল দায়িত্ব থেকে সরে আসার চেষ্টা করেছেন। তাঁর তদন্তে বিস্তর ফাঁকফোকর রয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
স্বর্ণ ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় ইতিপূর্বেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন কোচবিহারের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সজল সরকার। তিনিও হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন, কিন্তু আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া সম্ভব নয়। সজল সরকারের এই জামিন মামলার শুনানির সূত্রেই প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিষয়টি সামনে আসে এবং আদালত পুলিশকে ভর্ৎসনা করতে বাধ্য হয়। পুলিশের সামনে ১০ দিনের সময়সীমা দিয়েছে
হাইকোর্ট , এই নির্দেশের ফলে রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে আগামী ১০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে আদালতে।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে নিউটাউনে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে প্রশান্ত বর্মন পুলিশি ঝামেলায় জড়ালেও, রহস্যজনকভাবে তিনি সেখান থেকেও ছাড়া পেয়ে যান। তবে এবার আদালতের সরাসরি হস্তক্ষেপের পর রাজ্য পুলিশের ওপর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চরম চাপ তৈরি হয়েছে।

