ফলতায় আয়োজিত এক জনকল্যাণ শিবিরে দাঁড়িয়ে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এদিন জানান, কারা এই প্রকল্পে আবেদন করলেও টাকা থেকে পাবে না। তিনি বলেন, যে সমস্ত অভিভাবক তাদের সন্তানদের এমন কোনো প্রতিষ্ঠানে পড়াচ্ছেন, যেখানে মূল ধারার শিক্ষার পরিবর্তে রাষ্ট্রবিরোধী ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয় বা ভারতবিরোধী প্রচার চালানো হয়, তারা কোনোভাবেই এই প্রকল্পের টাকা পাবেন না। এছাড়া, যারা সন্তানদের সরকারি টিকা দেওয়ান না বা টিকা নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়ান যেমন টিকা নিলে ক্ষতি হবে বা জন্ম নিয়ন্ত্রণ হবে, এমন মানসিকতার অভিভাবকরাও এই প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকবেন। ফর্ম ফিল আপের পর এসব বিষয় কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের আমলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে যে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম এবং প্রকল্পের অপব্যবহার হয়েছে যেমন পুরুষদের সুবিধা নেওয়া বা অনুপ্রবেশকারীদের নাম তালিকায় ঢুকে পড়া তা এবার আর হতে দেওয়া হবে না। তাই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে হলে আবেদন করলেই চলবে না, এবার থেকে প্রতিটি আবেদনের ক্ষেত্রে থাকছে কড়া ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া।
তবে যারা নিয়ম মেনে চলছেন, তাদের আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি স্কুল, সরকার অনুমোদিত স্কুল কিংবা রাজ্য বা কেন্দ্রীয় বোর্ডের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বেসরকারি স্কুলে যেসব মায়েরা তাদের সন্তানদের পড়াচ্ছেন, তারা যথাযথ নিয়ম মেনে ফর্ম পূরণ করলে ভেরিফিকেশনের পর অবশ্যই টাকা পাবেন। ইতোমধ্যে গত ৩ জুন প্রায় ২৮ লাখ অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছেছে এবং নতুন করে ১ লাখেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। যাদের নাম পোর্টালে ইতিমধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তারা আগামী মাস থেকেই এই সুবিধা পাওয়া শুরু করবেন। অর্থাৎ তাঁরা ১ জুলাই এ জুন মাসের টাকাটা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পেয়ে যাবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
প্রসঙ্গত, প্রয়োজনে সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়েও তথ্য যাচাই করবেন, যাতে কোনোভাবেই অযোগ্য ব্যক্তিরা এই সরকারি সুবিধার অপব্যবহার করতে না পারে।
